অভিবাসীদের শহর খ্যাত নিউইয়র্কে ২২তম বারের মতো উৎযাপিত হয়েছে অভিবাসী ঐতিহ্য সপ্তাহ| গত ১৩ এপ্রিল নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়ের অভিবাসী বিষয়ক দপ্তরের কমিশনার ফাইজা নাসরিন আলি এবারের বার্ষিক অভিবাসী ঐতিহ্য সপ্তাহের উদ্বোধন করেছেন| এবছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘অভিবাসীরাই নিউইয়র্ককে শক্তি দেয়’|
এই আয়োজনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী উদযাপন| যেখানে নিউইয়র্কে বসবাসরত অভিবাসীদের ˆবচিত্র, সংস্কৃতি, প্রাণচাঞ্চল্য এবং অর্থনীতিতে তাদের অবদান তুলে ধরা হবে| অভিবাসী ঐতিহ্য সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে শহরজুড়ে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যেখানে সকল নিউইয়র্কবাসীকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে| আয়োজকদের মতে, এই তিন মাসব্যাপী উদ্যোগ শুধু উদযাপন নয়, বরং নিউইয়র্কের অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিতে অভিবাসীদের অবদানকে ¯^ীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ|
এ উপলক্ষ্যে মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, নিউইয়র্ক শ্রমজীবী মানুষের শহর| প্রজন্মের পর প্রজন্ম অভিবাসী পরিবার এই শহরের পাড়া-মহল্লা গড়ে তুলেছে| ২০২৬ সালে আমাদের প্রধান লক্ষ্য অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার-কারণ অভিবাসীরা অর্থনীতির বাইরে নয়, বরং এর কেন্দ্রবিন্দু| কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ভালো কাজের সুযোগ, আর্থিক সেবা এবং প্রতারণা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করাই একটি ন্যায়ভিত্তিক শক্তিশালী নিউইয়র্ক গড়ার শর্ত|
অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার বিষয়ক উপ-মেয়র জুলি সু বলেন, অভিবাসী শ্রমিকদের ত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রমই নিউইয়র্ক শহরের পরিচয় গড়ে তুলেছে| তাই মানুষের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করতে কাজ অব্যাহত থাকবে|
কমিশনার ফাইজা নাসরিন আলি জানান, নিউইয়র্কে ৩০ লাখের বেশি অভিবাসী বাস করেন, যারা শহরের শ্রমবাজার ও অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র| একজন অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে আমি গর্বিত-অভিবাসীরা প্রতিদিন এই শহরকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন| এবারের প্রতিপাদ্য অভিবাসীদের বাস্তব অবদান ও শ্রমকে সামনে নিয়ে এসেছে|
দপ্তরের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনথিভুক্ত অভিবাসীদের নেতৃত্বাধীন পরিবারগুলো প্রায় ৯৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার কর প্রদান করেছে, যার মধ্যে ৩৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার রাজ্য ও স্থানীয় এবং ৫৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ফেডারেল কর| রেস্তোরাঁ, নির্মাণ, গৃহভিত্তিক ¯^াস্থ্যসেবা, হাসপাতাল এবং শিক্ষা খাতে অভিবাসীদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি|
নথি ও তথ্য সেবা বিভাগের কমিশনার পলিন টুল বলেন, “চার শতকের ইতিহাসে অভিবাসীরাই নিউইয়র্ককে শিল্প, অবকাঠামো ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে|





Add comment