যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি মুসলিম নারীদের মধ্যে বিদিতা রহমানই প্রথম প্রাপ্তবয়স্ক নারী যিনি ‘ইউনাইটেড তায়কোয়ান্দো’ এবং ওয়ার্ল্ড তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন থেকে তায়কোয়ান্দোতে ‘ব্ল্যাক বেল্ট ফার্স্ট ডিগ্রি’ অর্জন করেছেন| তিনি ১০টি দ্বিভাষিক বই এবং ১৩টি গবেষণা প্রবন্ধের রচয়িতা; তাঁর এই গবেষণাপত্রগুলো ১০০টি সাইটেশন বা উদ্ধৃতি লাভ করেছে| বিদিতা বাংলাদেশি কমিউনিটির একজন সক্রিয় সদস্য এবং তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও আন্তর্জাতিক পুরুষ্কারপ্রাপ্ত ফটোর্জানালিষ্ট মরহুম মোঃ লুৎফর রহমান বিনু’র সুযোগ্য কন্যা এবং নিউইয়র্কের সফল ব্যাবসায়ী বিসমিল্লাহ হালাল লাইভ পোলট্রীর কর্ণধার আবদুস সালামের সহধর্মিনী|
বিদিতা রহমান একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী হিসাবে পরিচিত| প্রশিক্ষণের প্রতি তাঁর রয়েছে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি এবং তিনি অনেক প্রতিকূলতা জয় করে এগিয়ে এসেছেন| একজন পিএইচডি ফেলো এবং দুটি সন্তানের মা হিসেবে, তিনি নিজের বিভিন্ন দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সময় ব্যবস্থাপনা করেন| শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসিক শৃঙ্খলা গঠন এবং আত্মরক্ষার কৌশল শেখার মতো নানাবিধ উপকারের কারণে বিদিতা মার্শাল আর্টকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন| মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ তাঁকে পেশী গঠনে, চর্বি কমাতে এবং হৃদযন্ত্রের ¯^াস্থ্য উন্নত করতে সহায়তা করে| এটি শরীরের নমনীয়তা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে সমš^য় এবং ভারসাম্য বৃদ্ধি করে, যা আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি কমায়| শারীরিক পরিশ্রম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক একাগ্রতা এক ধরণের সক্রিয় ধ্যানের মতো কাজ করে যা তাঁর মনকে প্রশান্ত রাখে এবং সামগ্রিক সুস্থতায় সহায়তা করে| বিদিতা রহমানের কথায়, “আমি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ; তিনিই এই সবকিছু সম্ভব করেছেন| তাঁর ইচ্ছা ও অনুমতি ছাড়া হয়তো আমি এই যাত্রাপথ পাড়ি দিতে পারতাম না| আমাকে ব্যথা, আঘাত, উদ্বেগ, মানসিক চাপ, অপমান, ভয়, অ¯^স্তি এবং হতাশার মুখোমুখি হতে হয়েছে| তবে এর পাশাপাশি আমি অর্জন করেছি শৃঙ্খলা, দৃঢ় সংকল্প, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষমতা, সাহস, আত্মবিশ্বাস, ভয় জয় করার শক্তি, নিষ্ঠা, ˆধর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং কখন আক্রমণ করতে হবে আর কখন আত্মরক্ষা করতে হবে—সেই বিচক্ষণতা| আমি এখনও শিখছি, নিজেকে আরও ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি এবং এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমার বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করছি| আমি শিখেছি কীভাবে শরীর বাধা ও মানসিক আঘাত কাটিয়ে সেরে উঠতে পারে এবং একজন প্রকৃত যোদ্ধার জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে| কখনও কখনও নারীদের বাইরের কোনো অনুপ্রেরণার জন্য অপেক্ষা না করে নিজেদেরই উঠে দাঁড়াতে হয়| কেউ আপনাকে বাঁচাতে বা রক্ষা করতে আসবে না, তাই বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজের পায়ে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি| উৎসাহ বা সমর্থনের জন্য অপেক্ষা করবেন না| আপনি যদি কিছু চান কিন্তু পর্যাপ্ত সমর্থন না পান, তবে হয়তো সফল নাও হতে পারেন, কারণ অনেক সময় অর্জনগুলো উপেক্ষিত থেকে যায়| হয়তো কেউ আপনাকে অভিনন্দন জানাবে না, আপনাকে গুরুত্ব দেবে না, এমনকি নিরুৎসাহিতও করতে পারে; কিন্তু নিজের যাত্রাপথ এবং আপনার কাছে কী গুরুত্বপূর্ণ—তা আপনিই ভালো জানেন| মানুষ হয়তো আপনার অগোচরে নানা কথা বলবে, কিন্তু আপনার লক্ষ্যগুলোই গুরুত্বপূর্ণ| আমি আমার প্রশিক্ষকদের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞ; তাঁদের প্রচেষ্টা ও ˆধর্য আমার কাছে অমূল্য| একজন প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে আমি প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রশ্ন করি প্রতিদিন নিজেকে আরও উন্নত করতে আমি কী করতে পারি, যাতে একদিন আমার প্রতিষ্ঠান আমার জন্য গর্ববোধ করে|” মার্শাল আর্ট সব বয়সের মানুষের জন্যই উপকারী; এটি ভারসাম্য, নিয়ন্ত্রণ, নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে| ¯^াস্থ্যগত সমস্যা আছে এমন ব্যক্তিদের জন্যও এর পরামর্শ দেওয়া হয়| মার্শাল আর্ট শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের সুস্থতা নিশ্চিত করে| কিশোর-কিশোরীরা এর মাধ্যমে বুলিইং বা উত্যক্তকরণ এবং অন্যান্য ধরনের হয়রানির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার কৌশল শিখতে পারে| শিশুদের ক্ষেত্রে, মার্শাল আর্ট তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও আত্মসংযম শিখতে সহায়তা করে| প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এটি শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে| বিভিন্ন কৌশল আয়ত্ত করার সময় যে মনোযোগের প্রয়োজন হয়, তা ˆদনন্দিন মানসিক চাপ থেকে মনকে মুক্ত রাখে; অন্যদিকে শরীর থেকে এন্ডোরফিন নিঃসরণ ঘটায়, যা উদ্বেগ কমায়| প্রশিক্ষণের ম্যাটে পা রাখা এবং নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা মানুষের আত্মসম্মানবোধ ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করে| বয়স্কদের ক্ষেত্রে মার্শাল আর্ট শরীরের ভারসাম্য, হাড়ের ঘনত্ব এবং বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সহায়তা করে| তাই চি এবং অ্যাডাপ্টিভ কারাতের মতো কার্যকলাপগুলো কম চাপযুক্ত কিন্তু সম্পূর্ণ শরীরের ব্যায়াম প্রদান করে, যা বয়সজনিত ক্ষয় রোধ করতে, পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে| নিয়ন্ত্রিত নড়াচড়ার অনুশীলন কোর মাসলকে শক্তিশালী করে এবং গুরুতরভাবে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়| ভারবহনকারী এবং রেজিস্ট্যান্স ব্যায়ামগুলোও হাড়ের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে এবং পেশীর ভর বজায় রেখে অস্টিওপোরোসিসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে| তাই মার্শাল আর্ট অত্যন্ত জরুরি|





Add comment