৮৫ বছর বয়সী বিধবার দেশে ফেরা

৮৫ বছর বয়সী এক ফরাসি বিধবা, যিনি একজন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেনের স্ত্রী ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন হেফাজতে কয়েকদিন থাকার পর অবশেষে নিজ দেশে ফিরেছেন। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে তিনি শুক্রবার নিরাপদে ফ্রান্সে ফিরে গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফরাসি নাগরিক ওই নারীকে ১ এপ্রিল আলাবামায় আটক করে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা ICE। অভিযোগ ছিল, তিনি তার ৯০ দিনের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। এই কারণেই তাকে আইনি অভিবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হেফাজতে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের একটি ফেডারেল অভিবাসন আটক কেন্দ্রে রাখা হয়। সেখানে তিনি অভিবাসন আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বৃহৎ আকারের অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বিশেষ করে পূর্বে সামরিক সদস্যদের পরিবার ও স্বামী বা স্ত্রীদের ক্ষেত্রেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে আগে তুলনামূলকভাবে কিছুটা শিথিলতা থাকলেও সাম্প্রতিক নীতিতে সেই সুবিধাগুলো সীমিত করা হয়েছে বলে জানা যায়।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আটক থাকার পর অবশেষে ওই নারী শুক্রবার সকালে ফ্রান্সে ফিরে আসেন। তিনি বিষয়টিকে তাদের জন্য একটি সন্তোষজনক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কিছু পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা করেন। তার মতে, এসব পদ্ধতি ফরাসি মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং গ্রহণযোগ্যও নয়।

তিনি আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে যেসব আচরণ বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে সেখানে সহিংসতার মতো কিছু অভিযোগও উঠে এসেছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে এই ঘটনার মানবিক দিক এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন নিয়ে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে উদ্বেগ রয়েছে।

উল্লেখিত ফরাসি নারীটি গত বছরের এপ্রিল মাসে আলাবামার এক বাসিন্দা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন ছিলেন, তার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। স্থানীয় কাউন্টির বিবাহ রেকর্ড অনুযায়ী এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পরে জানা যায়, ওই মার্কিন নাগরিক জানুয়ারিতে মারা যান। তার পরিবারের প্রকাশিত মৃত্যুসংবাদ অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি এবং এর মানবিক প্রভাব। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ধরনের হেফাজত এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে, যেখানে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে তাদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

বর্তমানে ওই নারী ফ্রান্সে ফিরে গেছেন এবং এই ঘটনা দুই দেশের অভিবাসন নীতি ও মানবিক বিবেচনার আলোচনায় নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পর্যবেক্ষণও অব্যাহত রয়েছে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed