যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের শুরুতে আটক চার ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়ে দীর্ঘ বিলম্বের পর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কংগ্রেস নির্ধারিত ৯০ দিনের সময়সীমা অতিক্রম করার পর শুক্রবার এসব রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়, যা সংস্থাটির স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানুয়ারিতে সংঘটিত চারটি মৃত্যুর বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে দুইটি মৃত্যুকে আগেই সম্ভাব্য আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। নতুন তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আরও কিছু ব্যাখ্যা পাওয়া গেলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর মধ্যেই চলতি সপ্তাহের শুরুতে আরও একটি মৃত্যুর ঘটনা জানায় সংস্থাটি। এতে করে ২০২৬ সালে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭-তে। সর্বশেষ ঘটনায়, এক কিউবান নাগরিককে মিয়ামির একটি ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে তার সেলে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সংস্থার প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ঘটনাটি সম্ভাব্য আত্মহত্যা হতে পারে, তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো তদন্তাধীন।
জানুয়ারির এই চারটি মৃত্যুর রিপোর্ট প্রকাশ করা হয় এমন সময়, যখন কয়েকদিন আগেই গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে সংস্থাটি আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এসব তথ্য প্রকাশ করেনি। ফলে বন্দিদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতি নিয়ে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংস্থাটির হেফাজতে মোট ৩৩ জনের মৃত্যু হয়, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগের বছর ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১। চলতি বছরের শুরুতেই মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
অন্যদিকে, এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত সংস্থাটির হেফাজতে থাকা অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৬০ হাজারেরও বেশি। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই সংখ্যা কিছুটা কমেছে, তবুও এটি পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষ করে বর্তমান প্রশাসনের সময়কালে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের ফলে আটক ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার সংগঠন এবং নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে বারবার জোর দেওয়া হচ্ছে, আটক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মৃত্যুর ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ ও সময়মতো তদন্তের ওপর। একইসঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট প্রকাশ না করার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলছে।





Add comment