দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি আবারও প্রমাণ করল তার প্রভাবশালী শক্তি। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক ড্রামা সিনেমা ‘দ্য কিংস ওয়ার্ডেন’ দেশটির বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এটি এখন কোরিয়ার সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা চলচ্চিত্রের তালিকায় প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে।
কোরিয়ান ফিল্ম কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ছবিটির মোট আয় প্রায় ৯৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার। এর ফলে এটি আগের রেকর্ডধারী ‘এক্সট্রিম জব’ (৯৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার) এবং ‘দ্য অ্যাডমিরাল: রোরিং কারেন্টস’ (৯১ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার)-এর আয় অতিক্রম করেছে। এই সাফল্য শুধু একটি চলচ্চিত্রের অর্জন নয়; বরং এটি কোরিয়ান সিনেমার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার প্রতিফলন।
আয়ের দিক থেকে শীর্ষে থাকলেও দর্শকসংখ্যার বিচারে ‘দ্য কিংস ওয়ার্ডেন’ এখনও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ পর্যন্ত ছবিটি দেখেছেন প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ দর্শক। তুলনায় ‘এক্সট্রিম জব’ এবং ‘দ্য অ্যাডমিরাল: রোরিং কারেন্টস’ যথাক্রমে ১ কোটি ৭৬ লাখ এবং ১ কোটি ৬২ লাখ দর্শক সংগ্রহ করেছে। অর্থাৎ উচ্চমূল্যের টিকিট এবং প্রিমিয়াম প্রদর্শনের কৌশল এই রেকর্ড গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
২০ থেকে ২২ মার্চের সপ্তাহান্তে ছবিটি আয় করেছে ৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার, এবং বাজারের ৫২ শতাংশের বেশি দখল ধরে রেখেছে। এটি প্রমাণ করে, সপ্তম সপ্তাহে সিনেমাটি এখনও দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে। পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার একজন প্রসিদ্ধ পরিচালক, আর সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেশীয় দুই সুপরিচিত অভিনেতা।
চলতি সপ্তাহে কোরীয় বক্স অফিসে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হলিউডের ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’, যা আয় করেছে ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার। তালিকার পরবর্তী স্থানগুলো দখল করেছে ‘হপার্স’, ‘অ্যাটাক অন টাইটান দ্য মুভি: দ্য লাস্ট অ্যাটাক’ এবং ‘মেথড অ্যাক্টিং’-এর মতো অন্যান্য সিনেমা।
আলোচিত সিনেমা ‘দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন’ সম্প্রতি পুনরায় মুক্তি পেয়েছে এবং কোরীয় বক্স অফিসে নতুন করে দর্শক আকর্ষণ করেছে। একই সঙ্গে, ‘প্যারাসাইট’-এর অস্কার জয় এবং বিশ্বজুড়ে কে-পপের প্রভাবের ধারাবাহিকতায়, ‘দ্য কিংস ওয়ার্ডেন’-এর এই সাফল্য কোরিয়ান বিনোদন জগতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিনেমার ব্যাপক সফলতা কেবল কাহিনী বা অভিনয় নয়; দর্শকদের পছন্দ, বাণিজ্যিক কৌশল এবং সময়মতো মুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত প্রচারণাও বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক ও নাট্যধর্মী সিনেমার প্রতি দর্শকের আগ্রহ বাড়ছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর কোরিয়ান সিনেমার আন্তর্জাতিক সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
এভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি তার বৈচিত্র্য এবং গুণগত মানের মাধ্যমে বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে। ‘দ্য কিংস ওয়ার্ডেন’ শুধু আর্থিক সফলতা নয়, এটি দেশের সিনেমা সংস্কৃতির শক্তি ও ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারও প্রতীক।





Add comment