কোথায় দীর্ঘতম ও স্বল্পতম রোজা

পবিত্র রমজান মাসে সারা বিশ্বের মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সিয়াম পালন করেন। তবে ভৌগোলিক অবস্থান ও সূর্যোদয় সূর্যাস্তের সময়ের ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন দেশে রোজার সময়কাল একরকম থাকে না। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলে দিনের দৈর্ঘ্য বেশি বা কম হওয়ায় রোজার সময়েও বড় পার্থক্য দেখা যায়। নিচে বিশ্বের যেসব দেশে রোজার সময় সবচেয়ে বেশি এবং যেসব দেশে সবচেয়ে কম, তার একটি তালিকা তুলে ধরা হলো।

সবচেয়ে বেশি সময় রোজা রাখা হয় যেসব দেশে

১. Nuuk, Greenland
গ্রীনল্যান্ডের রাজধানী নুকে রোজার সময় প্রায় ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। গ্রীষ্মকালে এখানে দিনের আলো দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়, ফলে রোজাদারদের দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়।

২. Reykjavik, Iceland
আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিয়াভিকে রোজার সময় প্রায় ১৯ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। উত্তর ইউরোপের এই দেশেও গ্রীষ্মকালে সূর্যাস্ত দেরিতে হয়।

৩. Helsinki, Finland
ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে রোজার সময় প্রায় ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছায়। উচ্চ অক্ষাংশে অবস্থানের কারণে এখানেও দিন দীর্ঘ হয়।

৪. Oslo, Norway
নরওয়ের অসলোতেও রোজা প্রায় ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম দীর্ঘ সময়ের রোজা।

সবচেয়ে কম সময় রোজা রাখা হয় যেসব দেশে

১. Ushuaia, Argentina
আর্জেন্টিনার দক্ষিণ প্রান্তের উশুয়াইয়ায় রোজার সময় প্রায় ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা। দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থানের কারণে এখানে দিনের দৈর্ঘ্য তুলনামূলক কম থাকে।

২. Christchurch, New Zealand
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে রোজার সময় প্রায় ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা হতে পারে। দক্ষিণ গোলার্ধে রমজান পড়লে সেখানে দিন ছোট থাকে।

৩. Montevideo, Uruguay
উরুগুয়ের মন্টেভিডিওতে রোজার সময় প্রায় ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা। দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলে দিনের দৈর্ঘ্য তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় রোজার সময়ও কম হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজান কোন মৌসুমে পড়ছে তার ওপরও রোজার দৈর্ঘ্য নির্ভর করে। যখন রমজান উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালে পড়ে, তখন ইউরোপ ও উত্তরাঞ্চলের দেশগুলোতে রোজার সময় বেড়ে যায়। বিপরীতে দক্ষিণ গোলার্ধে তখন দিন ছোট থাকায় রোজার সময় কম হয়। কয়েক বছর পর পরিস্থিতি উল্টে যায়, কারণ ইসলামি চান্দ্র বর্ষপঞ্জি সৌরবর্ষের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, মুসলমানরা নিজ নিজ এলাকার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় অনুসরণ করে রোজা পালন করেন। তবে মেরু অঞ্চলের কিছু এলাকায় দিন বা রাত দীর্ঘ সময় স্থায়ী হলে, সেসব ক্ষেত্রে নিকটবর্তী স্বাভাবিক সময়সূচি অনুসরণ করার বিধান দেওয়া হয়।

এই ভৌগোলিক পার্থক্যের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোজার সময় ১১ ঘণ্টা থেকে শুরু করে প্রায় ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। তবুও ভিন্ন সময়কাল হলেও সিয়ামের মূল চেতনা ও আত্মসংযমের বার্তা সবার জন্য সমান।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed