‘ঐক্যের সুতায় নকশী গাঁথুন, নতুন বছরে আনন্দে বাঁচুন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বর্ষবরণ ১৪৩৩| গত ৩ মে নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফরমিং আর্ট সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই এসোসিয়েশনের সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন|
জাহাঙ্গীরনগর এলামনাই এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র (জেএএএ) আয়োজনে সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন| প্রথমবারের মত যোগ দেয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এলামনাই এসোসিয়েশন|
ঢালের তালের মাধ্যমে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা আহবান করেন উৎসবের আহ্ববায়ক মেঘনা পাল এবং সদস্য সচিব প্রশান্ত মল্লিক অয়ন|
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন নিউ ইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক| বিশেষ অতিথি ছিলেন কুইন্স সোস্যাল এডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টারের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হক এবং অল কাউন্টি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান শিফা আমিন| অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘আইলো আইলো আইলো রে, রঙ্গে ভরা ˆবশাখ আবার আইলো রে’ গানটির সাথে উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করেন জাহাঙ্গীরনগর এলামনাই ও পরিবার| শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আহবায়ক মেঘনা পাল, মে¤^ার সেক্রেটারি প্রশান্ত মল্লিক অয়ন এবং সকল যুগ্ম আহ্বায়কগণ| তারা হলেন এম এস আলম (ঢাবি), ফতেনূর আলম বাবু (রাবি), সাবিনা শারমিন নিহার (চবি), বেলায়েত চৌধুরী (সাস্ট), এম এ রশিদ (শেরে বাংলা) ও রাজ্জাক চোকদার|
এসময় এলামনাইদের কাছে জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্ট সেন্টারের লাল ইট যেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল| অনুষ্ঠানে বাহারি রকমের ভর্তা-ভাজি এবং ইলিশের সমাহার নিয়ে হাজির হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই পরিবারবর্গ|
আয়োজনের একটি বিশেষ পর্ব হলো প্রবাসে বাঙালী কমিউনিটিতে বিশেষ অবদানের জন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ নববর্ষ সম্মাননা প্রদান করা| এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেয়া হয় প্রখ্যাত কবি, শিক্ষাবিদ, অনুবাদক ও শব্দ-কারিগর শামস আল মমীনকে|
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে শামস আল মমীন দীর্ঘদিন ধরে কবিতা ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন| তাঁর লেখনীতে উঠে আসে মানুষের অনুভূতি, প্রবাস জীবনের গল্প এবং দেশাত্মবোধের গভীর টান, যা পাঠকদের মাঝে আলাদা আবেদন সৃষ্টি করেছে|
সাংস্কৃতিক পর্বে প্রথমে দলীয় পরিবেশনা নিয়ে হাজির হয় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তারপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সমবেত সাংস্কৃতিক পরিবেশন তুলে ধরেন| একে একে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন তাদের মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন| সবশেষে সঙ্গীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রেশমী মির্জা| পুরো অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল চ্যানেল ফোরটিন|





Add comment