ক্লান্তিতেও ফোকাস ফেরানোর ৬ উপায়

চোখ হয়তো কম্পিউটারের স্ক্রিনে বা বইয়ের পাতায় স্থির, কিন্তু মন ঘুরে বেড়াচ্ছে অন্য কোথাও—এ দৃশ্য আজকাল খুবই পরিচিত। একের পর এক ক্লাস, অফিসে ধারাবাহিক মিটিং, কিংবা কাজের অতিরিক্ত চাপ—সবকিছু মিলিয়ে শরীর ও মনের ওপর তৈরি হয় ক্লান্তি। এই ক্লান্তিই ধীরে ধীরে মনোযোগ কমিয়ে দেয়, ফলে কর্মদক্ষতাও হ্রাস পায়। তবে কিছু সহজ ও বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত অভ্যাস মেনে চললে খুব সহজেই আবার মনোযোগ ফিরে পাওয়া সম্ভব।

প্রথমত, নিয়মিত ছোট বিরতি নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। দীর্ঘ সময় একটানা কাজ করলে মস্তিষ্কের ওপর চাপ পড়ে এবং কার্যক্ষমতা কমে যায়। তাই প্রতি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পরপর অন্তত ১ থেকে ২ মিনিটের জন্য বিরতি নেওয়া যেতে পারে। এই সময়টাতে একটু হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং করলে শরীর ও মন দুটোই আবার কাজের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে।

সময় ব্যবস্থাপনায় কার্যকর একটি কৌশল হলো পমোদরো পদ্ধতি। ইতালীয় শব্দ ‘পমোদরো’ অর্থ টমেটো। এই পদ্ধতির উদ্ভাবক একজন সময় ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ, যিনি নিজের কাজের সময় নির্ধারণে টমেটোর আকৃতির একটি ঘড়ি ব্যবহার করতেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী, ২৫ মিনিট কাজের পর ৫ মিনিট বিরতি নেওয়া উচিত। এই ছন্দ মেনে চললে মানসিক ক্লান্তি অনেকটাই কমে এবং দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।

কাজের পরিবেশের আলোও মনোযোগে বড় ভূমিকা রাখে। কম আলো বা অন্ধকার পরিবেশে কাজ করলে সহজেই ঘুমঘুম ভাব তৈরি হয়, যা মনোযোগ নষ্ট করে। তাই সম্ভব হলে প্রাকৃতিক আলোতে কাজ করা ভালো। আর সূর্যাস্তের পর উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করলে মন সতেজ থাকে এবং কাজের গতি বজায় রাখা যায়।

একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের ওপর চাপ পড়ে, যা সরাসরি মনোযোগে প্রভাব ফেলে। এ ক্ষেত্রে ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করা কার্যকর হতে পারে। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ ফুট দূরে থাকা কোনো বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকা। এতে চোখের ক্লান্তি কমে এবং মস্তিষ্কও কিছুটা বিশ্রাম পায়।

শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেও ক্লান্তি কাটানো সম্ভব। ৪-৭-৮ পদ্ধতিটি এ ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর। এতে ৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিতে হয়, ৭ সেকেন্ড ধরে রাখতে হয় এবং ৮ সেকেন্ডে ধীরে ধীরে ছাড়তে হয়। কয়েকবার এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে মস্তিষ্ক দ্রুত শান্ত হয় এবং নতুন করে শক্তি ফিরে আসে।

সবশেষে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস মনোযোগ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খালি পেটে কাজ বা পড়াশোনা করলে ফোকাস কমে যায়। তাই কাজের ফাঁকে বাদাম, বেরি জাতীয় ফল, মৌসুমি ফল, সালাদ কিংবা ডার্ক চকলেট খাওয়া যেতে পারে। এসব খাবার রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক, কিন্তু সেটিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে কর্মক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব। ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলো দৈনন্দিন জীবনে যুক্ত করলে মনোযোগ ধরে রাখা অনেকটাই সহজ হয়ে উঠবে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed