যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় দেখা গেছে, দ্রুত প্রস্তুত করা যায় এমন খাবার এবং উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাদ্য তালিকাই তাদের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। ব্যস্ত জীবনযাপন, কর্মঘণ্টার চাপ এবং সহজলভ্যতার কারণে এসব খাবারের প্রতি ঝোঁক ক্রমেই বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকানদের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় সবচেয়ে বেশি থাকে ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং রেডিমেড মিল। এর মধ্যে বার্গার, পিজ্জা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফ্রাইড চিকেন এবং স্যান্ডউইচ অন্যতম। এগুলো শুধু স্বাদে জনপ্রিয় নয়, বরং দ্রুত পাওয়া যায় এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হওয়ায় অনেকেই নিয়মিত এসব খাবার গ্রহণ করেন।
প্রাতঃরাশের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই সকালে সিরিয়াল, দুধ, টোস্ট, ডিম অথবা প্যানকেকের মতো সহজ ও দ্রুত প্রস্তুতযোগ্য খাবার বেছে নেন। এছাড়া কফি আমেরিকানদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ দিনের শুরু করেন এক কাপ কফি দিয়ে, যা তাদের কর্মদিবসের শক্তি জোগায়।
দুপুরের খাবারে অফিসগামী মানুষদের মধ্যে বাইরে খাওয়ার প্রবণতা বেশি। অনেকেই রেস্টুরেন্ট বা ফাস্ট ফুড চেইন থেকে খাবার নিয়ে থাকেন। সালাদ, স্যান্ডউইচ কিংবা র্যাপের মতো কিছু তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর অপশন থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে উচ্চ ক্যালোরি ও ফ্যাটযুক্ত খাবারই বেশি জনপ্রিয়।
রাতের খাবারে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়। অনেক পরিবার বাসায় রান্না করা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে থাকে মাংস, সবজি, পাস্তা, ভাত বা আলুভিত্তিক বিভিন্ন পদ। তবে এখানেও প্রক্রিয়াজাত উপকরণ ব্যবহারের প্রবণতা কম নয়। ফ্রোজেন খাবার গরম করে খাওয়ার সংস্কৃতিও বেশ প্রচলিত।
পানীয়ের ক্ষেত্রে সফট ড্রিংক, সোডা এবং চিনিযুক্ত পানীয়ের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ায় অনেকেই পানি, জুস বা লো-সুগার ড্রিংকের দিকে ঝুঁকছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই ধরনের খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে স্থূলতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ধীরে ধীরে অনেক মানুষ স্বাস্থ্যকর খাদ্যের দিকে ঝুঁকছেন। অর্গানিক খাবার, প্ল্যান্ট-বেসড ডায়েট এবং ঘরে তৈরি খাবারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
সব মিলিয়ে, আমেরিকানদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় দ্রুত প্রস্তুতযোগ্য ও উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের আধিক্য থাকলেও ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর বিকল্পের দিকেও একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই পরিবর্তন আরও দৃশ্যমান হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





Add comment