সালাদ সবসময় স্বাস্থ্যকর নয় কেন

সালাদকে সাধারণভাবে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ধরা হলেও, বাস্তবে প্রতিটি সালাদ সমানভাবে উপকারী নয়। অনেকেই মনে করেন সালাদ মানেই পুষ্টিকর খাবার, কিন্তু এর প্রকৃত গুণাগুণ নির্ভর করে ব্যবহৃত উপকরণ, প্রস্তুত প্রণালি এবং কীভাবে এটি খাওয়া হচ্ছে তার ওপর। সঠিকভাবে পরিকল্পনা না করলে সালাদ থেকেও কাঙ্ক্ষিত পুষ্টি পাওয়া কঠিন হতে পারে।

একটি সালাদ কতটা স্বাস্থ্যসম্মত হবে, তা নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রাখে এর উপাদান নির্বাচন। সালাদ তৈরির সময় এমন উপকরণ বেছে নেওয়া প্রয়োজন, যাতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান অন্তর্ভুক্ত থাকে। একই সঙ্গে পরিমাণের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত বা অপ্রতুল কোনো কিছুই শরীরের জন্য ভালো নয়।

অনেক সালাদেই আমিষজাতীয় উপাদান অনুপস্থিত থাকে। অথচ দেহের গঠন ও ক্ষয়পূরণের জন্য আমিষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সালাদে ডিম বা মাংসের মতো আমিষ যোগ করা উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি উদ্ভিজ্জ উৎস থেকেও আমিষ গ্রহণ করা সম্ভব। বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ সালাদে যুক্ত করলে তা পুষ্টিগুণ বাড়ায়। এমনকি যদি কেউ শুধু ফল বা সবজিভিত্তিক সালাদ খেতে চান, তাহলেও আলাদা করে আমিষসমৃদ্ধ একটি পদ রাখা উচিত।

শুধু আমিষ নয়, শর্করা ও স্নেহ পদার্থও খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণের কথা ভেবে এগুলো পুরোপুরি বাদ দেন, যা ঠিক নয়। বরং ধীরে হজম হয় এমন শর্করা এবং স্বাস্থ্যকর স্নেহ পদার্থ সালাদে যুক্ত করা যেতে পারে। ভুট্টা, বেবিকর্ন, বাজরা, কিনোয়া, চিড়া বা অল্প পরিমাণ ভাজা চাল সালাদের পুষ্টিগুণ বাড়াতে সহায়তা করে। এতে যেমন শক্তি পাওয়া যায়, তেমনি দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তিও বজায় থাকে। অল্প পরিমাণ অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে সালাদের স্বাদ ও গুণ দুটোই বাড়ে। বাদাম যুক্ত করলে সেটিও ভালো স্নেহ পদার্থের উৎস হিসেবে কাজ করে।

সালাদের টপিং বা ড্রেসিং নির্বাচনেও সচেতনতা জরুরি। অলিভ অয়েল উপকারী হলেও অতিরিক্ত ব্যবহার করা উচিত নয়। একইভাবে সিরাপ বা ক্রিমভিত্তিক ড্রেসিং এড়িয়ে চলা ভালো। চিনি ব্যবহার না করাই উত্তম, প্রয়োজনে সামান্য মধু ব্যবহার করা যেতে পারে। লেবুর রস একটি ভালো বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত এবং পনিরের মতো টপিং সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত। চাল, আলু বা মিষ্টি আলুর মতো উপাদান ক্যালরির মাত্রা বাড়াতে পারে, তাই সেগুলোর পরিমাণও নজরে রাখা প্রয়োজন। টিনজাত খাবার, সসেজ বা প্রক্রিয়াজাত মাংস সালাদে ব্যবহার না করাই ভালো। এর পরিবর্তে বাড়িতে রান্না করা মাংস ব্যবহার করা বেশি নিরাপদ।

অনেকে মনে করেন বেশি কাঁচা সবজি মানেই বেশি স্বাস্থ্যকর। তবে অতিরিক্ত কাঁচা সবজি হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। প্রয়োজনে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, কাঁচা পেঁপে, গাজর বা মটরশুঁটির মতো সবজি হালকা ভাপিয়ে নেওয়া যেতে পারে, যা হজমের জন্য সহায়ক।

পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি সালাদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু সালাদের অনেক উপাদান কাঁচা অবস্থায় খাওয়া হয়, তাই সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে না নিলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। ফলে স্বাস্থ্যকর ভেবে খাওয়া সালাদ থেকেও অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সালাদ স্বাস্থ্যকর হতে পারে, তবে তা নির্ভর করে সঠিক উপাদান, পরিমিত ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রস্তুতের ওপর। সচেতনভাবে তৈরি না হলে সালাদও পুষ্টির পরিবর্তে সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed