বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Tesla তুলনামূলক কম দামের একটি নতুন ছোট আকারের স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল বা এসইউভি তৈরির পরিকল্পনায় কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজন ব্যক্তির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি কোম্পানির সম্পূর্ণ নতুন একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি বিদ্যমান Tesla Model 3 বা Tesla Model Y–এর কোনো সংস্করণ নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই এসইউভির দৈর্ঘ্য হতে পারে প্রায় ১৪ ফুট, যা বর্তমানে বাজারে থাকা মডেল ওয়াইয়ের ১৫ দশমিক ৭ ফুট দৈর্ঘ্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে গাড়িটি আকারে ছোট ও কমপ্যাক্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন নকশা শহুরে পরিবহনের জন্য আরও উপযোগী হতে পারে, যেখানে ছোট আকারের যানবাহনের চাহিদা বেশি।
মূল্যের দিক থেকেও নতুন এই মডেলটি টেসলার বর্তমান সবচেয়ে সাশ্রয়ী মডেল থ্রির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মডেল থ্রির প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ৩৭ হাজার ডলার। নতুন এসইউভিটি তার চেয়ে কম দামে বাজারে আনার লক্ষ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উৎপাদন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে জানা গেছে, নতুন মডেলটি চীনে তৈরি করা হতে পারে। এতে ছোট আকারের ব্যাটারি এবং একক মোটর ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে মডেল থ্রি এবং মডেল ওয়াই উভয়ই এক বা দুই মোটরের সংস্করণে পাওয়া যায়। নতুন মডেলে ব্যাটারির আকার ছোট করা হলে গাড়ির মোট ওজন কমবে, যা উৎপাদন খরচ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এর ফলে একবার চার্জে চলার দূরত্ব কিছুটা কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়সীমা অনুযায়ী এটি কবে বাজারে আসবে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এমনকি প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত না হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এর আগে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা Elon Musk সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কোম্পানি এমন একটি পণ্য নিয়ে কাজ করছে যা ‘মিনিভ্যানের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয়’ হবে। যদিও তিনি নতুন এসইউভি সম্পর্কে সরাসরি কিছু বলেননি, তার মন্তব্যকে এই প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি স্বয়ংক্রিয়চালিত যানবাহন উন্নয়নেও কাজ করছে বলে জানা গেছে। ‘সাইবারক্যাব’ বা ‘রোবোভ্যান’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে এটি ভবিষ্যতের পরিবহন প্রযুক্তির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কম দামের নতুন মডেল আনার পরিকল্পনা টেসলার জন্য একেবারেই নতুন নয়। ২০২৪ সালে এমন একটি প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে বলে রয়টার্স একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করলে, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী সেই তথ্যকে ‘ভুল’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে বাস্তবতা হলো, এখন পর্যন্ত টেসলা বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে কম দামের কোনো নতুন মডেল আনতে পারেনি।
সব মিলিয়ে, নতুন ছোট আকারের এসইউভি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তা বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যারা তুলনামূলক কম দামে বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।





Add comment