পৃথিবী থেকে প্রায় ১২০ আলোকবর্ষ দূরে একটি ভিন্ন ধরনের সৌরজগতের সন্ধান পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা। নতুন এই আবিষ্কার গ্রহ গঠনের প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বিজ্ঞানীদের। বিশেষ করে এই সৌরজগতে পৃথিবীর মতো দুটি গ্রহের উপস্থিতি এবং তাদের অস্বাভাবিক বিন্যাস গবেষণায় নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, একটি মাত্র সৌরজগতে পৃথিবীর মতো দুটি গ্রহ থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এ ধরনের গ্রহগুলোকে সাধারণত ‘সুপার আর্থ’ বলা হয়। এগুলো আকারে পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা বড় হলেও নেপচুনের মতো গ্যাসীয় গ্রহের তুলনায় ছোট। ফলে এই ধরনের গ্রহের গঠন ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই আবিষ্কারের মাধ্যমে গবেষকরা বুঝতে চেষ্টা করছেন, একই পরিবেশে তৈরি হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে দুটি গ্রহ ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। বিষয়টি অনেকটা একই পরিবারে বেড়ে ওঠা যমজ সন্তানের মধ্যে পার্থক্যের মতো। এই তুলনা ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা গ্রহ গঠনের জটিল প্রক্রিয়াকে আরও সহজভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন।
আমাদের নিজস্ব সৌরজগতের একটি নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে। সূর্যের কাছাকাছি অবস্থান করছে ছোট ও পাথুরে গ্রহগুলো, যেমন বুধ, শুক্র, পৃথিবী এবং মঙ্গল। আর সূর্য থেকে দূরে অবস্থান করছে বৃহস্পতি ও শনির মতো বিশাল গ্যাসীয় গ্রহ। কিন্তু নতুন আবিষ্কৃত সৌরজগতে এই পরিচিত বিন্যাস পুরোপুরি ভিন্ন।
এখানে দেখা গেছে, বড় আকারের গ্যাসীয় গ্রহগুলো তাদের নক্ষত্রের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করছে। বিপরীতে, পাথুরে বা পৃথিবীর মতো গ্রহগুলো রয়েছে আরও দূরে। এই অস্বাভাবিক বিন্যাসকে বিজ্ঞানীরা ‘ইনসাইড-আউট’ বা উল্টো ধাঁচের গ্রহ গঠন প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মহাবিশ্বের সব সৌরজগৎ একই নিয়ম অনুসরণ করে তৈরি হয়নি।
এই আবিষ্কার করতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক মহাকাশ দূরবীন। নাসার টিইএসএস এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সিএইচওপিএস টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই সৌরজগতটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই প্রযুক্তিগুলো গ্রহের গতিপথ, আকার এবং অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই ধরনের অস্বাভাবিক সৌরজগৎ নিয়ে গবেষণা ভবিষ্যতে গ্রহ গঠন সংক্রান্ত তাত্ত্বিক মডেলকে আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে গ্রহের স্থানান্তর, মহাকর্ষ বলের প্রভাব এবং নক্ষত্রকে ঘিরে থাকা পরিবেশের পরিবর্তন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের বৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করেছে, আমাদের পরিচিত সৌরজগতই একমাত্র মডেল নয়। বরং মহাকাশে এমন অনেক ব্যতিক্রমী গঠন রয়েছে, যা এখনো আমাদের অজানা।





Add comment