সাবেক ফুটবল তারকা ও তাঁর সঙ্গী, যিনি সংগীত ও ফ্যাশন জগতের পরিচিত মুখ, গত কয়েক বছরে তিন মহাদেশে মোট ১২টি বাড়ি কিনেছেন। কিছু সম্পত্তি বিক্রি হলেও বেশ কয়েকটি এখনো তাঁদের মালিকানায় রয়েছে। এর মধ্যে কটসওল্ডস এলাকার খামারবাড়িটি তাঁদের কাছে বিশেষ প্রিয়। করোনাকাল থেকে এই বাড়ির নানা ছবি ও তথ্য নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করছেন এই তারকা দম্পতি।
চার সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান বর্তমানে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। বাকি তিন সন্তানকে নিয়ে তাঁরা লন্ডনের হল্যান্ড পার্কের বিলাসবহুল বাড়িতে বসবাস করেন। তবে শহুরে জীবনের মধ্যেও গ্রামীণ পরিবেশের প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ অনুভব করছিলেন সাবেক এই ফুটবলার। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই ২০১৬ সালে দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজির পর অক্সফোর্ডশায়ারের চিপিং নরটন এলাকায় একটি খামারবাড়ির সন্ধান পান।
প্রথম দেখায় জায়গাটি খুব একটা আকর্ষণীয় ছিল না। সেখানে ছিল দুটি পুরোনো শস্যাগার, ছড়ানো ইটপাথর ও আবর্জনা। তবু জায়গাটি তাঁর দৃষ্টি কাড়ে এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় ২৬ একর জমিসহ সম্পত্তিটি কিনে নেন তিনি। পরবর্তীতে পরিবারকে এই সিদ্ধান্ত জানাতে কিছুটা নাটকীয়তা অবলম্বন করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
খামারবাড়িটি কেনার পর প্রায় ১৪ মাস ধরে সেখানে ব্যাপক সংস্কারকাজ চালানো হয়। পুরোনো দুটি শস্যাগারের আদলে নতুন একটি বাড়ি নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি বিখ্যাত বাগান নকশাবিদের মাধ্যমে তৈরি করা হয় দৃষ্টিনন্দন বাগান। এই দীর্ঘ কাজ শেষে পরিবার নিয়ে সেখানে ফিরে গেলে সবাই মুগ্ধ হন।
বর্তমানে এই খামারবাড়িতে রয়েছে ফুলের বাগান, শাকসবজি ক্ষেত, ফলের গাছ, সুইমিংপুল, ফুটবল মাঠ, মৌবাগান, ট্রি হাউস ও স্পাসহ নানা আধুনিক সুবিধা। জলচর পাখিদের জন্য বিশেষভাবে একটি জলাশয় তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ।
সাধারণত সপ্তাহান্তে এই এস্টেটেই সময় কাটান তাঁরা। প্রতি শুক্রবার সাবেক ফুটবলার আগে পৌঁছে যান এবং পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা যোগ দেন। রোববার পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে আবার শহরের বাসায় ফিরে যান। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই তাঁদের বন্ধুদের কেউ না কেউ সেখানে আসেন এবং বাড়ির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন।
বাড়িগুলোর স্থাপত্যশৈলীও বেশ অনন্য। পুরোনো কাঠামোর সঙ্গে আধুনিক নকশার সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে পুরো আবাসিক এলাকা। পাথরের দেয়াল, কাঠের বিম ও বড় আকারের শিল্পকর্ম অন্দরসজ্জায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিটি কক্ষের সঙ্গে রয়েছে আলাদা বাথরুম এবং অতিথিদের জন্যও রাখা হয়েছে আলাদা ব্যবস্থা।
প্রকৃতির প্রতি এই তারকার ভালোবাসা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে। আগে যেখানে বড় জায়গা থাকা সত্ত্বেও গাছপালার দিকে তেমন মনোযোগ ছিল না, সেখানে এখন তিনি নিজেই গাছ লাগানো ও বাগান পরিচর্যায় সময় দেন। বিভিন্ন প্রজাতির গাছ যেমন ম্যাপল, পাইন, ওক, ইয়ো ও বিচ এখানে রোপণ করা হয়েছে।
খামারবাড়ির একটি বড় আকর্ষণ হলো জলাশয় ঘিরে তৈরি কাঠের পথ, যা একটি ছোট দ্বীপে গিয়ে মিলেছে। সেখানে রয়েছে বসার জায়গা ও বিশ্রামের ব্যবস্থা। পাশাপাশি মৌবাগান থেকে নিয়মিত মধু সংগ্রহ করা হয়, যা পরিবারের জন্য বিশেষ আনন্দের বিষয়।
এছাড়া এখানে রয়েছে কিচেন গার্ডেন, যেখানে নানা ধরনের সবজি ও ফল উৎপাদন করা হয়। এই ফার্মহাউসে অবস্থানের সময় এখানকার উৎপাদিত সবজি দিয়েই রান্না করা হয়। শহরে ফেরার সময়ও সঙ্গে করে এসব নিয়ে যান তাঁরা।
খামারবাড়িতে আরও আছে গ্রিনহাউস, মুরগির খামার এবং উন্মুক্ত রান্নাঘর, যেখানে রান্না করাকে মানসিক প্রশান্তির অন্যতম মাধ্যম হিসেবে দেখেন সাবেক এই ফুটবলার। বিভিন্ন বসার জায়গা ও আগুন জ্বালানোর বিশেষ স্থান পুরো পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
দীর্ঘ সময় ধরে যত্ন ও পরিকল্পনার মাধ্যমে গড়ে তোলা এই খামারবাড়ি এখন শুধু ব্যক্তিগত অবকাশযাপন কেন্দ্র নয়, বরং আধুনিক বিলাসিতা ও প্রাকৃতিক জীবনের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





Add comment