মায়ামিতে মেসির ছোঁয়ায় ঐতিহাসিক ফাইনাল

যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে নিজেদের ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কাপ ফাইনালে পৌঁছে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে ইন্টার মায়ামি। ফ্লোরিডার চেজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ইস্টার্ন কনফারেন্স ফাইনালে তারা নিউইয়র্ক সিটি এফসিকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিশ্চিত করেছে এমএলএস কাপের টিকিট। ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের আধিপত্যই মায়ামির এই দুর্দান্ত জয়ে সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করে।

মেজর লিগ সকারে মোট ৩০টি দল ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সে ভাগ হয়ে লড়াই করে। দুই কনফারেন্সের প্লে-অফ চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি করেই আয়োজন করা হয় মর্যাদাপূর্ণ এমএলএস কাপ ফাইনাল। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টার মায়ামি এতদিন তিনবার প্লে-অফে উঠলেও কখনো সেমিফাইনালের গণ্ডি পার হতে পারেনি। এবারের মৌসুম সেই সীমা ভেঙে নতুন করে সম্ভাবনার সব দরজা খুলে দিয়েছে। সেমিফাইনাল জয়ের পর এবার ফাইনালের টিকিট পেলো প্রভাবশালী ফুটবল উপহার দিয়ে।

আজকের ম্যাচে মায়ামির জয়ের নায়ক ছিলেন দলের আর্জেন্টাইন আক্রমণভাগের তারকা যিনি হ্যাটট্রিক করে উজ্জ্বল করেছেন নিজের নাম। ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড শুরু থেকেই আক্রমণ সাজিয়ে ম্যাচের গতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। তার সঙ্গী হিসেবে দারুণ ভূমিকা রাখেন একই দেশের আরেক তরুণ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। মায়ামির পঞ্চম গোলটি করেন দলের উইঙ্গার যিনি মাঝমাঠ থেকে উঠে এসে দারুণ শট নেন।

ম্যাচের ১৪তম মিনিটেই মায়ামিকে এগিয়ে দেন হ্যাটট্রিক করা আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। এই গোলটি আসে দলের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের পাস থেকে। মাত্র দশ মিনিট পরেই আবারও গোল, এবার হেডে। তাকে নিখুঁত ক্রস দিয়ে সহায়তা করেন দলের অভিজ্ঞ স্প্যানিশ লেফট ব্যাক। দ্রুত দুই গোল খেয়ে প্রতিপক্ষ চাপে পড়লেও ৩৭তম মিনিটে এক গোল শোধ করে কিছুটা লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে নিউইয়র্ক সিটি। তবে বিরতিতে যাওয়ার আগে তারা ব্যবধান আর কমাতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ইন্টার মায়ামি আরও পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলতে থাকে। ৬৭তম মিনিটে দলের অধিনায়ক বক্সের মধ্যে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের চাপে আটকে পড়লেও দারুণ বুদ্ধিমত্তায় বল বাড়িয়ে দেন আর্জেন্টাইন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের পায়ে। মাত্র ১৯ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়ান এবং ব্যবধান বাড়ান। এই গোলের পরই ম্যাচে মায়ামির শ্রেষ্ঠত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

৮৩তম মিনিটে দলটির লেফট ব্যাক বক্সের ভেতর চমৎকার ব্যাক পাস দেন মিডফিল্ডারকে, যিনি দেরি না করে বল জালে পাঠান এবং স্কোরলাইন ৪-১ করেন। নিউইয়র্ক সিটি এফসি তখন প্রায় ভেঙে পড়ে। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে মায়ামির ডান দিকের ডিফেন্ডার বল তুলে দেন হ্যাটট্রিকের অপেক্ষায় থাকা আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের সামনে। তিনি সহজেই বল জালে পাঠিয়ে পূর্ণ করেন নিজের ব্যক্তিগত অর্জন। এই গোলেই নিশ্চিত হয় মায়ামির ৫-১ গোলের মহা জয়।

এই জয় কেবল ম্যাচ জয়ের নয়, বরং ক্লাবের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচনার প্রতীক। মায়ামি এখন অপেক্ষায় ওয়েস্টার্ন কনফারেন্স ফাইনালের বিজয়ীর। আগামী ৬ ডিসেম্বর ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে সান ডিয়েগো কিংবা ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের। প্রতিপক্ষ যেই হোক, মায়ামির সামনে এখন একটাই লক্ষ্য ক্লাবের প্রথম এমএলএস কাপ জয়ে সফল হওয়া।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed