ডেস্কে বসে ফিট থাকার সহজ ব্যায়াম

দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে বসে কাজ করা আধুনিক পেশাজীবীদের দৈনন্দিন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা বসে থাকার ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন পিঠ ও ঘাড়ে ব্যথা, রক্ত সঞ্চালনে ধীরগতি, ক্লান্তি এবং স্থূলতার ঝুঁকি বৃদ্ধি। তবে কর্মস্থলেই কিছু সহজ ব্যায়াম নিয়মিত করলে এই সমস্যাগুলো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অফিসের কাজের মাঝেও ছোট ছোট বিরতিতে কিছু হালকা শারীরিক অনুশীলন শরীরকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে। এসব ব্যায়াম করার জন্য আলাদা জিম বা সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না, বরং নিজের চেয়ার ও ডেস্কই হয়ে উঠতে পারে একটি কার্যকর ব্যায়াম স্থান।

ডেস্কে বসেই প্রথম যে ব্যায়ামটি করা যায় তা হলো ঘাড় ও কাঁধ স্ট্রেচিং। দীর্ঘ সময় মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকলে ঘাড়ে চাপ পড়ে। ধীরে ধীরে মাথা ডান ও বাম দিকে ঝুঁকিয়ে কিছুক্ষণ ধরে রাখা, তারপর সামনে ও পেছনে নড়ানো ঘাড়ের পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে। একইভাবে কাঁধ ওপরের দিকে তুলে কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে ছেড়ে দিলে কাঁধের টান কমে আসে।

আরেকটি কার্যকর ব্যায়াম হলো বসে বসে পা ওঠানো। চেয়ারেই সোজা হয়ে বসে এক পা কিছুটা ওপরে তুলে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখা এবং তারপর নামিয়ে অন্য পায়ে একই কাজ করা। এটি পায়ের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে হওয়া অবশভাব কমায়।

হাত ও কব্জির ব্যায়ামও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা কম্পিউটারে টাইপ করেন তাদের জন্য কব্জি ঘোরানো এবং আঙুল প্রসারিত করা উপকারী। হাত সোজা করে কব্জি ধীরে ধীরে ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং বিপরীত দিকে ঘোরালে স্টিফনেস কমে যায়। আঙুল মুঠো করে আবার ছাড়ার ব্যায়াম রক্ত প্রবাহ উন্নত করে।

চেয়ারেই বসে করা যেতে পারে সিটেড টুইস্ট নামের একটি ব্যায়াম। এতে শরীরের উপরের অংশ ধীরে ধীরে ডান ও বাম দিকে ঘুরানো হয়। এটি মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়ায় এবং কোমরের ব্যথা কমাতে সহায়তা করে। এই ব্যায়ামগুলো খুব ধীরে এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে করা উচিত যাতে কোনো চাপ না পড়ে।

চোখের ক্লান্তি কমানোর জন্য ২০-২০-২০ নিয়ম কার্যকর। প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকালে চোখের চাপ কমে যায়। এটি দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে হওয়া চোখের ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।

এছাড়া অফিসের মধ্যে সম্ভব হলে প্রতি এক ঘণ্টা পর ২ থেকে ৩ মিনিট দাঁড়িয়ে হাঁটাহাঁটি করা উচিত। এটি শরীরকে পুনরায় সক্রিয় করে এবং মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়ায়, ফলে কাজের মনোযোগও বৃদ্ধি পায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব ছোট ছোট ব্যায়াম নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করলে দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব। ব্যস্ত কর্মজীবনের মাঝেও শরীরকে সচল রাখা কর্মদক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed