কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এক তারকা দম্পতি, যাদের উপস্থিতি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। একদিকে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন দুনিয়ার পরিচিত মুখ এক হাঙ্গেরিয়ান সুপারমডেল, অন্যদিকে মার্কিন অভিনেতা ও ব্যবসায়ী স্বামী—দুজনের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নজর কাড়ে বিশ্বমিডিয়ার।
হাঙ্গেরিয়ান এই সুপারমডেল দীর্ঘদিন ধরে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের অ্যাঞ্জেল হিসেবে পরিচিত। খুব অল্প বয়স থেকেই তিনি ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, নামকরা ম্যাগাজিনের কভার এবং র্যাম্প শোতে নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন, যা তাকে বৈশ্বিক ফ্যাশন অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করে।
অন্যদিকে তাঁর স্বামী মার্কিন অভিনেতা ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। ২০১৭ সাল থেকে এই জুটির প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে পরিণত হয় দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কে। জানা যায়, প্রথম দিকে অভিনেতাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে শুরুতে সুপারমডেল তাতে তেমন আগ্রহ দেখাননি। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নিজেই জানান, তাকে প্রথম সাক্ষাতে রাজি করাতে প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছিল।
পরবর্তীতে এই জুটি প্রায় ছয় বছর লং ডিস্ট্যান্স রিলেশনশিপে ছিলেন। দীর্ঘ সম্পর্কের পর ২০২৩ সালে তারা পারিবারিক পরিবেশে, অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে বিয়ে করেন। বিয়ের আয়োজন করা হয় সুপারমডেলের নিজ দেশ হাঙ্গেরিতে, তার পৈতৃক গ্রামে।
সম্প্রতি কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় তারা একসঙ্গে হাজির হয়ে নিজেদের নতুন সুখবর প্রকাশ করেন। লালগালিচায় তাদের উপস্থিতি এবং পারস্পরিক আবেগঘন মুহূর্ত মুহূর্তেই অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
এই দম্পতির জীবনে এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন সদস্য। ৩২ বছর বয়সী সুপারমডেল এবং ৩৩ বছর বয়সী অভিনেতার পরিবারে শিগগিরই আসছে প্রথম সন্তান। এই ঘোষণা তারা সরাসরি কান উৎসবের লালগালিচায় দাঁড়িয়েই দেন, যা মুহূর্তেই ক্যামেরাবন্দি হয়ে ভাইরাল কনটেন্টে পরিণত হয়।
সেই বিশেষ দিনে সুপারমডেল পরেছিলেন ডাস্ট ব্লু রঙের ফ্লোয়িং ম্যাটারনিটি গাউন, যা তার মাতৃত্বকালীন উপস্থিতিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। অন্যদিকে অভিনেতা পরেছিলেন ক্লাসিক ব্ল্যাক টাক্সিডো, যা পুরো লুককে করেছে পরিপাটি ও এলিগ্যান্ট।
কান উৎসবের গ্ল্যামার, তারকাদের ভিড় আর ফ্যাশনের জমকালো পরিবেশের মধ্যেও এই দম্পতির স্বাভাবিক ভালোবাসা ও আনন্দঘন মুহূর্তই সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি কাড়ে। মুহূর্তগুলো দ্রুতই বিশ্বমিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তৈরি করে নতুন ট্রেন্ড।





Add comment