চীন-যুক্তরাষ্ট্র কৃষিপণ্য বাণিজ্যে নতুন সমঝোতা

চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কৃষিপণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে পারস্পরিক বাজার আরও উন্মুক্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বাণিজ্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সমঝোতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের পর চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত শনিবার এ তথ্য জানায়।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে শুল্ক কমানো এবং অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। তবে এসব সমঝোতা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে তা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের চীন সফরের পর এই ঘোষণা আসে, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত বছরের পারস্পরিক শুল্ক আরোপের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের কৃষিপণ্য আমদানিতে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটে। অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকায় দুই দেশের কৃষি বাণিজ্য আগের তুলনায় অনেকটাই কমে যায়। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের কৃষিপণ্য আমদানি আগের বছরের তুলনায় ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৮৪০ কোটি ডলারে নেমে আসে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। যদিও কোন কোন পণ্যে এই সুবিধা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিতভাবে কিছু জানানো হয়নি।

গত অক্টোবরের আলোচনার পর চীন আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কৃষিপণ্য আমদানি শুরু করে। এর অংশ হিসেবে ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ দেশটি ১ কোটি ২০ লাখ টন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি পূরণ করে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম ও বিপুল পরিমাণ সরগাম বা জোয়ারও আমদানি করে চীন। এসব পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে কৃষিপণ্য বাণিজ্যে ধীরে ধীরে আস্থা ফেরার ইঙ্গিত দেয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সয়াবিনের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হলে চীনের বেসরকারি তেলবীজ প্রক্রিয়াজাতকারীরা আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন কেনায় সক্রিয় হবে। গত মৌসুমে মূলত রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোই এই আমদানি কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিল।

বেইজিংভিত্তিক অ্যাগ্রাডার কনসালটিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা জানান, কৃষিপণ্যে শুল্ক হ্রাস কার্যকর হলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবাণিজ্য আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে এবং বেসরকারি ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়বে। তাঁর মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই ধরনের সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে যে, অশুল্ক বাধা এবং বাজারে প্রবেশসংক্রান্ত জটিলতা দূর করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। এই সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের বাণিজ্যে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছিল।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্য থেকে গরুর মাংস ও পোলট্রি রপ্তানির ক্ষেত্রে চীনা আমদানিকারকদের নিবন্ধন সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ ছিল। চীন জানিয়েছে, এসব উদ্বেগ নিরসনে তারা কাজ করবে। সম্প্রতি বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের ৪২৫টি গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাত কারখানার নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়িয়েছে এবং আরও ৭৭টি স্থাপনাকে নতুন পাঁচ বছরের অনুমোদন দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিমন্ত্রী এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে জানিয়েছেন, চীন গরুর মাংস আমদানির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি অঙ্গরাজ্য থেকে আবারও গরুর মাংস আমদানি শুরু হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি মূল্যের কৃষিপণ্য কিনবে বলে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা রয়েছে। তবে কোন পণ্য কত পরিমাণে কেনা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed