বাজারে এসেছে অ্যাপলের নতুন আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স। গত শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফোন দুটির বিক্রি শুরু হয়েছে। নতুন এই আইফোন হাতে পেতে বিক্রির প্রথম দিনেই কুয়ালালামপুর, সিডনি ও সিঙ্গাপুরের অ্যাপল স্টোরের সামনে ভিড় করেন ক্রেতারা। কেউ কেউ ভোররাত থেকেই দোকানের সামনে অপেক্ষা করেছেন প্রথম ক্রেতা হওয়ার আশায়।
আইফোন ১৮ প্রোর দাম শুরু হয়েছে ১ হাজার ১৯৯ পাউন্ড থেকে, আর আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম শুরু হয়েছে ১ হাজার ২৯৯ পাউন্ড থেকে। এই তুলনামূলক উচ্চ দাম সত্ত্বেও বিক্রির প্রথম দিনেই নতুন আইফোন ঘিরে ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের একটি অ্যাপল স্টোরে বিক্রি শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই দীর্ঘ সারি তৈরি হয়ে যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রি-অর্ডার করা ফোন সংগ্রহের জন্য প্রথম ক্রেতা সেখানে পৌঁছান ভোর সাড়ে চারটার দিকে। দোকান খোলার সময় প্রি-অর্ডারকারী ও সরাসরি কিনতে আসা ক্রেতাদের জন্য আলাদা সারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।
সিঙ্গাপুরের একটি বিখ্যাত সড়কে অবস্থিত অ্যাপল স্টোরের সামনেও দেখা যায় দীর্ঘ সারি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দোকান খোলার আগেই সেখানে প্রায় ২০০ জন ক্রেতা অপেক্ষা করছিলেন এবং বিক্রি শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই স্টোরে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের মজুত শেষ হয়ে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতেও নতুন আইফোন কেনার জন্য ভোর থেকেই ক্রেতারা অ্যাপল স্টোরের সামনে জড়ো হন, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ প্রথম ক্রেতা হওয়ার জন্য আগের রাত থেকেই অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে চীনের হাংঝৌতে দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র। সেখানে বেশ কিছু পুনর্বিক্রেতা বা স্ক্যালপার অ্যাপল স্টোরের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন, যাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল নতুন আইফোন কেনা সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে ফোন কিনে পরে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা।
নকশার দিক থেকে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স আগের প্রজন্মের আইফোন ১৭ প্রো সিরিজের কাছাকাছি হলেও অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। দুটি মডেলেই ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাপলের নতুন একটি প্রসেসর চিপ, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উন্নত তাপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং তুলনামূলক ভালো ব্যাটারি কর্মক্ষমতা।
ক্যামেরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো ৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরায় ভেরিয়েবল অ্যাপারচার প্রযুক্তি যুক্ত করা, যার মাধ্যমে পরিবেশের আলো অনুযায়ী ক্যামেরায় প্রবেশ করা আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে ছবি তোলার সময় আলোর নিয়ন্ত্রণ ও ছবির গভীরতা নির্ধারণে ব্যবহারকারীরা আরও বেশি সুবিধা পাবেন। অ্যাপলের বিশ্বব্যাপী বিপণন বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আইফোন ১৮ প্রোতে ক্যামেরা, কর্মক্ষমতা, ব্যাটারি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের উন্নতি আনা হয়েছে এবং তাঁর মতে এই পরিবর্তনগুলো সামান্য কোনো উন্নয়ন নয়, বরং প্রো সিরিজে এসেছে বড় ধরনের অগ্রগতি। নতুন আইফোন ১৮ প্রো পাওয়া যাচ্ছে চারটি রঙে, কালো, রুপালি, গ্লেসিয়ার ও বারগান্ডি, যার মধ্যে গ্লেসিয়ার সম্পূর্ণ নতুন একটি রং।
এই সিরিজে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের অংশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে সিরির একটি উন্নত সংস্করণ, যা ব্যবহারকারীর বিভিন্ন অনুরোধ আরও কার্যকরভাবে বুঝে কাজ করতে সক্ষম বলে জানিয়েছে অ্যাপল। প্রারম্ভিক মূল্য বিবেচনায় নতুন এই দুই মডেল অ্যাপলের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দামি নন-ফোল্ডিং আইফোনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের পাশাপাশি অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন নিয়েও প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বইয়ের মতো ভাঁজ করা যায় এমন নকশার এই ফোনে থাকছে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির একটি ভেতরের ডিসপ্লে এবং ভাঁজ করা অবস্থায় বাইরের দিকে ব্যবহারের জন্য ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চির আরেকটি ডিসপ্লে। এই ফোন পাওয়া যাবে দুটি রঙে, নাইট স্কাই ও স্টার হোয়াইট। টাইটেনিয়াম দিয়ে তৈরি এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ধরনের কবজা বা হিঞ্জ, যা ফোনের স্থায়িত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি ভাঁজ করার ফলে পর্দায় দাগ পড়া কমাতেও সহায়তা করবে বলে দাবি করেছে অ্যাপল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ফেস আইডির পরিবর্তে এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে টাচ আইডি, অর্থাৎ মুখ শনাক্তকরণের বদলে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে ফোনটি আনলক করতে হবে।
এই ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচনের সময় অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, প্রথম আইফোন উন্মোচনের পর থেকে এটিই আইফোনে আনা সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। এই ফোনের দাম ১ হাজার ৯৯৯ থেকে ৩ হাজার ১৯৯ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্রে এর দাম শুরু হবে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে ফোনটির বিক্রি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।





Add comment