মার্কিন প্রেসিডেন্ট গত শনিবার জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তদারকির জন্য তিনি একজন ‘এআই জার’ এবং ‘এআই ফোর্স’ নামের একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করবেন।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে গত এক সপ্তাহে প্রযুক্তি খাতের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন এবং এর বিকাশ আরও ধীরগতিতে করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এমন মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন প্রেসিডেন্ট নিজে। তিনি বরং চান, এআইয়ের বিকাশ আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাক।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের এই অবস্থানের পেছনে একটি বড় কারণ হলো, এআইয়ের বিকাশে ধীরগতি এলে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীন এই প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। যদিও এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও জননিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব নিয়ে রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরেও অনেকে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন এবং তাঁরাও এআইয়ের বিকাশ ধীর করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি এআই ফোর্স গঠন করতে যাচ্ছেন, ঠিক যেভাবে তাঁর প্রথম মেয়াদে স্পেস ফোর্স গঠন করা হয়েছিল এবং যা যথেষ্ট সফলতাও পেয়েছিল। তিনি জানান, এ উদ্দেশ্যে অদূর ভবিষ্যতে তিনি একজন এআই জার নিয়োগের ঘোষণা দেবেন, যার জন্য কেবল উচ্চ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই আবেদন করতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে একই পোস্টে দ্রুত বিকাশমান এই প্রযুক্তি নিয়ে নিজের আগের অবস্থানও আবার স্পষ্ট করেন প্রেসিডেন্ট। প্রযুক্তি খাতের কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এআই ভবিষ্যতে মানুষের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রেসিডেন্টের দাবি, এআই নিয়ে ছড়ানো এই ধরনের ভীতি আসলে ভিত্তিহীন প্রচারণা ছাড়া আর কিছু নয়।
তিনি আরও লেখেন, বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের নানা গুজব ছড়ানো হয়েছে, যেগুলোর পেছনে মূলত উগ্র বামপন্থী রাজনৈতিক শক্তির হাত রয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর ভাষায়, এসবের মূল লক্ষ্য দেশকে দুর্বল করে দেওয়া। উদাহরণ হিসেবে তিনি অতীতের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ, ইউক্রেন-সংক্রান্ত বিতর্ক, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, নিজের বিরুদ্ধে হওয়া অভিশংসনের চেষ্টা এবং নারীদের খেলাধুলায় পুরুষদের অংশগ্রহণসংক্রান্ত বিতর্কের প্রসঙ্গ টানেন।
তিনি লেখেন, এআই নিয়ে আশঙ্কা ছড়িয়ে একে ধ্বংস বা বিলুপ্ত করার চেষ্টাকেও তিনি একই ধরনের একটি নতুন প্রচারণা হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, তাঁর প্রশাসন এই সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিশিল্পের বিকাশে কোনোভাবেই বাধা সৃষ্টি করবে না বা একে দমিয়ে রাখবে না। তবে কেউ যদি এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করেন, প্রয়োজনে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এআই নিয়ে প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে এআই নিয়ন্ত্রণের পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। একদিকে প্রযুক্তি খাতের একাংশ ও কিছু আইনপ্রণেতা এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতিমালার পক্ষে সোচ্চার, অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থান এই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার পক্ষেই স্পষ্টভাবে ঝুঁকে আছে।





Add comment