যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় আবেদনের জন্য দক্ষ বিদেশি কর্মীদের আরও এক বছর ১ লাখ ডলার ফি দিতে হবে। কারণ, এই ভিসার ফি বাড়িয়ে জারি করা নির্বাহী আদেশের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগদাতারা নির্দিষ্ট ফি পরিশোধের বিনিময়ে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের কয়েক বছরের জন্য দেশটিতে কাজের সুযোগ দিতে পারেন। প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন পেশার বিদেশি কর্মীরা মূলত এই ভিসার মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ১৯৯০ সালে এই ভিসা কর্মসূচি চালু করে, যা বিশেষভাবে ভারত ও চীন থেকে প্রযুক্তি খাতের দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই এই ভিসা কর্মসূচির সমালোচনা করে আসছেন। সাধারণত এই ভিসার ফি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে থাকে, তবে তিনি তা স্থায়ীভাবে বাড়িয়ে ১ লাখ ডলারে উন্নীত করতে চান। যদিও এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিমধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।
বোস্টনের একটি আপিল আদালত গত জুনে দেওয়া এক ফেডারেল বিচারকের রায় পর্যালোচনা করছে। ওই বিচারক প্রশাসনের আরোপ করা এই বাড়তি ফিকে বেআইনি ঘোষণা করে সরকারকে তা আদায় থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী সংগঠন এই ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে একটি মামলা করেছিল, যা ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক খারিজ করে দিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কি না, তা এখন আরেকটি আদালতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এই বাড়তি ফির ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। যাঁরা আগে বিদেশি শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন এবং পরে এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই বাড়তি ফি প্রযোজ্য হবে না। একইভাবে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী আদেশ জারির আগে থেকেই যাঁদের এইচ-১বি ভিসা ছিল, ভিসা নবায়নের সময় তাঁদেরও এই অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না।
উল্লেখ্য, প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে প্রথম নির্বাহী আদেশ জারি করেছিল, যার মেয়াদ চলতি মাসেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেই মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হলো।
এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে মূলত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু খাতে যোগ্য স্থানীয় কর্মীর ঘাটতি পূরণেও সহায়ক ভূমিকা রাখে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই একটি সমালোচনা রয়েছে যে কিছু প্রতিষ্ঠান মার্কিন নাগরিকদের বদলে তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য এই ভিসা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে থাকে। ফি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, এর মাধ্যমে এই ধরনের অপব্যবহার কিছুটা হলেও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে প্রযুক্তি খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই বাড়তি ফি দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে, যা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।





Add comment