আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
গত বুধবার টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির এক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানরা যদি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, উভয় কক্ষেই জয়ী হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থনৈতিক শক্তি ও সাফল্যের কারণে দেশের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার করে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট শর্তের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, এই অর্থ অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ব্যয় করতে হবে। তবে প্রস্তাবটি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
রিপাবলিকান পার্টির ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ এই ভাষণে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন এবং তাদের উগ্র কমিউনিস্ট বলে অভিহিত করেন। একই ভাষণে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত তাঁর অজনপ্রিয় সামরিক অভিযানের পক্ষেও সাফাই দেন।
ভোটারদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানরা জয়ী হলে দেশের মানুষও তাঁদের সঙ্গে জয়ী হবে এবং প্রতিশ্রুত পাঁচ হাজার ডলার করে পাবে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই ভাষণে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন, তবে ঘোষণার পরপরই এর নৈতিক ও বাস্তবভিত্তিক যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাঁরা যেন মনে করেন আসন্ন নির্বাচনেও তিনি নিজে একজন প্রার্থী।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় কম বলে জানা গেছে। তাঁর প্রতি জনসমর্থনের হার নেমে এসেছে প্রায় ৩৮ শতাংশে। এই অজনপ্রিয়তার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী এই সম্মেলনে অংশ নেননি।
ডালাসের এই সম্মেলনে ট্রাম্প কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন, সার্বিক বিবেচনায় বিশেষ করে অর্থনৈতিক দিক থেকে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল সময়। ভাষণের একটি বড় অংশজুড়ে তিনি সতর্ক করেন, আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের যেকোনো একটির নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটরা পেলে তার সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দেশের ওপর একধরনের উন্মত্ত ও অসুস্থ ছোট্ট মেঘ ভর করেছে, আর তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে কমিউনিজমকে পরাজিত করবেন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারই প্রথমবারের মতো এ ধরনের সম্মেলনের আয়োজন করেছে রিপাবলিকান পার্টি। দলটির প্রত্যাশা, এই সম্মেলন আসন্ন নির্বাচনী প্রচারে নতুন গতি সঞ্চার করবে। যদিও বিভিন্ন পূর্বাভাসে ইঙ্গিত মিলছে, এই নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে।
তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের ভাষণে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি নিজেকেই মূল নির্ধারক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন। সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারে না, এই প্রচলিত ধারার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তাঁদের এই ধারা ভাঙতে হবে, কারণ তাঁর প্রশাসন ইতিমধ্যে অনেক ভালো কাজ করে দেখিয়েছে।
ভোটারদের উদ্দেশে ট্রাম্প আরও বলেন, তাঁরা যেন মনে করেন তিনিও যেন একবারের জন্য নির্বাচনী ব্যালটেই আছেন। কারণ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা পরাজিত হলে দেশের মানুষ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, করছাড়, নিরাপত্তা ও সম্পদ, সবকিছুই হারাবে এবং দেশ তখন ঠিক দুই বছর আগের মতোই এক ধরনের চরম দুরবস্থার মধ্যে পড়বে বলে দাবি করেন তিনি।





Add comment