নিউইয়র্কে লাল সবুজের পতাকায় ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’

বাংলাদেশি কম্যুউনিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ, মূলধারার রাজনীতিবিদ, সমাজ সেবক, অভিনেতা, অভিনেত্রী, ব্যবসায়ি, সাংবাদিক, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ ডে প্যারেড| লাল সবুজ পতাকায় ছিল রঙিন| জেবিবিএর সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মানের নেতৃত্বে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ ডে প্যারেড| এর আগেও বাংলাদেশ ডে প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে| এ নিয়ে টানা দুবার বাংলাদেশ ডে প্যারেডের আয়োজন করেন ফাহাদ সোলায়মান| সহযোগিতায় ছিল জেবিবিএ, বাপাসহ বিভিন্ন সংগঠন| প্যারেডে পুরো বাংলাদেশকে উপস্থাপন করা হয়েছে| সেই সঙ্গে ছিল বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐহিত্য এবং শিল্প-সংস্কৃতিকে উপস্থাপন| দিন যত যাচ্ছে বাংলাদেশ ডে প্যারেডের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আকর্ষণ তত বাড়ছে|
গত ১৭ মে নিউ ইয়র্কের গরম আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে বাঙালি সাজে, বাঙালিয়ানায় হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ ডে প্যারেডে| বাংলাদেশ ডে প্যারেডটি বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিত হয়| জ্যাকসন হাইটসের ৬৯ স্ট্রিট থেকে এই প্যারেড শুরু হয় এবং ৮৭ স্ট্রিটে গিয়ে শেষ হয়| এবারের পুরো আয়োজনটি ছিল চমৎকার| কোথাও কোনো ছন্দপতন দেখা যায়নি| নানা রঙের পোস্টার, বাংলা নববর্ষের কার্টুন, নৃত্য, সংগীত, ঢাকঢোল সবকিছুর আয়োজন ছিল| এবারের বাংলাদেশ ডে প্যারেডে ব্যাপক সংখ্যক সংগঠন ¯^তঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে| মানুষের রঙিন উপস্থিতি, রঙিন উপস্থাপন পুরো এলাকাকে রাঙিয়ে তোলে| আনন্দে গানে, নৃত্যে- ঢাকঢোলে যখন প্যারেড এগিয়ে যাচ্ছিল, সেই সময় এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছিল| হৃদয়ে ধারণ করা বাংলাদেশটি যেন চোখের সামনে ফুটে ওঠে| অপ্রাপ্তির বেদনা যেন প্রাপ্তিতে ভরে ওঠে| দেখতে পেল প্রবাসে বাংলাদেশ| ফুটে উঠেছে গ্রাম বাংলার চিরায়াত চিত্র, সেই সঙ্গে বাঙালির ঐতিহ্য| প্যারেডে মূলধারার রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও নায়ক নায়িকা এবং শিল্পীরা আসেন| তারা যখন রাস্তা অতিক্রম করছিলেন, তখন ভিন দেশিরা তালি বাজিয়ে তাদের উৎসাহিত করছিলেন|
প্যারেডে অতিথি হিসেবে ছিলেন গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, আজকাল সম্পাদক লায়ন শাহ নেওয়াজ| মেলার সদস্য সচিব ফাহাদ সোলায়মান, কনভেনর গিয়াস আহমেদ, চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এবং সোনিয়া সিরাজের উপস্থাপনায় প্যারেডে গ্র্যান্ড মার্শাল ছিলেন এনওয়াই হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান এম আজিজ, ঠিকানার চেয়ারম্যান এম এম শাহীন| কংগ্রেসম্যান গ্রেস মেং, কংগ্রেসম্যান টম সুয়াজি, অ্যাসে¤^লিম্যান স্টিভেন রাগা, জেসিকা গাঞ্জালেস রোহাস, চিফ কো-অর্ডিনেটর অল কাউন্ট্রি হোক কেয়ারের প্রেসিডেন্ট আব্দুল কাদের শিশির, চিফ ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর ফেমড রকি, প্যারেড কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান, মার্শাল হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নূরুল আজিম, শাহজাহদী পারভীন সারা, ¯^াধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্র নাথ রায়, শাহ গ্রুপের প্রেসিডেন্ট শাহ জে চৌধুরী, বাপার প্রেসিডেন্ট প্রিন্স আলম, পুলিশ অফিসার জামিল সরওয়ার, ফাতেমা প্রিসিলা, অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, সজল, ইমন, কল্লোল, ফ্যাশন ডিজাইনার পিয়াল, অভিনেত্রী মৌসুমী, অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান, তানজিন তিশা, নওশীন, শিল্পী শুভ্র দেব প্রমুখ|
কংগ্রেসম্যান গ্রেস মেয় বলেন, ক্রমবর্ধমান কমিউনিটির সদস্য হিসেবে বাংলাদেশিরা নিউ ইয়র্ক সিটিকে বসবাসের চমৎকার একটি জনপদে পরিণত করতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছেন| তাদের আমি সর্বত্র দেখতে পাই| আমেরিকান ¯^প্ন পূরণের পথে মার্কিন রাজনীতি ও প্রশাসনের সম্পৃক্ততার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি| তিনি আরো বলেন, আপনাদের প্রমাণ করতে হবে ¯^প্নের দেশে নয়, ¯^প্ন বাস্তায়নের দেশ| আমি আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং আগামী দিনেও থাকবো|

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed