অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ৮৪ বিলিয়ন ডলারের জরিমানা

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ঘোষণা করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যেসব অবৈধ অভিবাসী চূড়ান্ত বহিষ্কার বা প্রকাশিত ফাইনাল অর্ডার অব রিমুভাল আদেশ পাওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েননি, তাদের বিরুদ্ধে ৮৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি সিভিল জরিমানা করা হয়েছে। গত ২২ জুলাই ডিএইচএসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩ হাজারের বেশি জরিমানার নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এসব জরিমানার মোট পরিমাণ প্রায় ৮৪ বিলিয়ন ডলার। এ জরিমানা মূলত তাদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য, যারা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশ পাওয়ার পরও অবস্থান করছেন।

বর্তমান নীতির অধীনে, চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ পাওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ না করলে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯৯৮ ডলার পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। ডিএইচএস বলছে, এ আর্থিক জরিমানা ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো অবৈধ অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়তে উৎসাহিত করা এবং সরকারের বহিষ্কার কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করা।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তারা অবৈধ অভিবাসীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। ডিএইচএসের সহকারী সচিব লরেন বিস বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব মার্কওয়েন মুলিনের নেতৃত্বে বিভাগটি অপরাধী ও অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের অপসারণ কার্যক্রম দ্রুততর করছে।

ডিএইচএস বলেছে, অবৈধ অভিবাসীদের সামনে এখন দুটি পথ রয়েছে, তারা স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যেতে পারেন অথবা গ্রেফতার, জরিমানা ও জোরপূর্বক বহিষ্কারের মুখোমুখি হতে পারেন। বিভাগটি জানিয়েছে, যারা সিবিপি হোম অ্যাপ ব্যবহার করে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাবেন, তারা কিছু বিশেষ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—বিনামূল্যে দেশে ফেরার বিমান টিকিট এবং ২ হাজার ৬০০ ডলারের আর্থিক সহায়তা। এছাড়া যারা স্বেচ্ছায় চলে যাবেন, তাদের ওপর আরোপিত কিছু বেসামরিক জরিমানা মওকুফ করা হতে পারে।

যদিও ডিএইচএস প্রায় ৮৪ বিলিয়ন ডলারের জরিমানা জারি করেছে, এ পুরো অর্থ এখনো সরকারের কোষাগারে জমা হয়নি। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে। অর্থাৎ ঘোষিত জরিমানার পরিমাণ এবং বাস্তবে সংগৃহীত অর্থের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে জরিমানা আদায় করা কঠিন হতে পারে, কারণ অনেক অভিবাসীর আর্থিক সামর্থ্য সীমিত এবং কেউ কেউ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব জরিমানাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। ডিএইচএস জানিয়েছে, যেসব অভিবাসী জরিমানা পরিশোধ না করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার এবং অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

২০২৫ সালের জুন মাসে ডিএইচএস এবং ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (ডিওজে) অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপের প্রক্রিয়া আরো দ্রুত করার জন্য নতুন নিয়ম ঘোষণা করে। নতুন ব্যবস্থায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, জরিমানা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ৩০ দিনের আগাম নোটিশের বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হয়েছে। ডিএইচএস কর্মকর্তাদের সাধারণ ডাকযোগে জরিমানার নোটিশ পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জরিমানা চ্যালেঞ্জ করার প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ডিএইচএসের মতে, এসব পরিবর্তনের ফলে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য সিবিপি হোম অ্যাপ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করছে। ডিএইচএসের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, যারা নিজের ইচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন তারা:নিজের পছন্দ অনুযায়ী ফেরার ব্যবস্থা করতে পারবেন, কিছু ক্ষেত্রে বিনামূল্যে বিমান সহায়তা পাবেন। ভবিষ্যতে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বজায় রাখার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে যারা এ সুযোগ গ্রহণ করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে ডিএইচএস বলেছে, গ্রেফতার, আটক এবং বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অঙ্গীকার। প্রশাসন বলছে, সীমান্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধি, অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতার এবং দ্রুত বহিষ্কারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

ডিএইচএসের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির ফলে লাখ লাখ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেছে এবং বিপুলসংখ্যক গ্রেফতার ও বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এ নীতির উদ্দেশ্য হলো, যারা আইন ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে অবৈধ অভিবাসন নিরুৎসাহিত করা। অন্যদিকে অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো এই নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, বিপুল পরিমাণ আর্থিক জরিমানা আরোপ অনেক অভিবাসীর জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং মানবিক ও আইনি বিষয়গুলো আরো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed