চুরাশিয়ান মহামিলনে তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে মুখর নিউইয়র্ক

এসএসসি ১৯৮৪ ব্যাচ (চুরাশিয়ান) নর্থ আমেরিকার চতুর্থ পুনর্মিলনী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন ব্যাচের সদস্যরা। গত ২৫ জুলাই, শনিবার, দীর্ঘদিন পর একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়ে যেন ফিরে পান হারিয়ে যাওয়া শৈশব ও কৈশোরের দিনগুলো। স্মৃতিচারণ, আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং পরিবার-পরিজনের আন্তরিক অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত, উৎসবমুখর ও বর্ণিল।
নিউইয়র্কের নান্দনিক ওয়ার্ল্ডস ফেয়ার মেরিনার সুবিশাল প্রাঙ্গণটি সেদিন যেন প্রাণচঞ্চল এক স্কুল ক্যাম্পাসে পরিণত হয়েছিল। গল্প, আড্ডা আর খুনসুটিতে মেতে উঠেছিলেন একদল মানুষ, যেন ফিরে গিয়েছিলেন পনের-ষোল বছরের কৈশোরে। বহুদিন পর প্রিয় বন্ধুদের সান্নিধ্যে প্রতিটি মুখে ফুটে উঠেছিল তারুণ্যের দীপ্তি। হাসি, উচ্ছ্বাস আর আন্তরিকতায় পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে তৈরি হয়েছিল এক আবেগঘন মিলনমেলার আবহ।
বিকেল ছয়টায় নদীর তীরঘেঁষা সবুজে ঘেরা ওয়ার্ল্ডস ফেয়ার মেরিনার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে শুরু হয় মহামিলনের প্রথম পর্ব—উদ্বোধন, স্মৃতিচারণ ও ককটেল পর্ব। বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরে মহামিলনের কনভেনর শামস চৌধুরী রুশো উদ্বোধনের ঘোষণা দেন।

স্মৃতিচারণ পর্বে স্বাগতিক নিউইয়র্কের চুরাশিয়ানদের পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, কানাডা, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশ থেকে আগত প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন কানাডার মিজান রহমান, ইমাম উদ্দিন, সোহেল মাহমুদ, মঈন তালুকদার ও মজিবুর মোল্লা; বাংলাদেশের সানোয়ার হোসেন নওরোজ, কাজী জাহাঙ্গীর কবির, ইমন শেখ ও আলীম উল্লাহ; শ্রীলঙ্কার হীরা ডি স্যারম; টেক্সাসের সামু হোসাইন, ইফতেখার আলম লিটন, শাহীন শাহনাজ ও মোহাম্মদ আলী; ফ্লোরিডার টিটন মালিক, আশরাফ উদ্দিন, হাসিবুল হাসান, ইকবাল করিম ও শারমীন জামান লিপি; বোস্টনের ডা. শেখ শাহাবুদ্দিন, লাল গোলাম ফারুক ও মশিউর রহমান; পেনসিলভানিয়ার মাহফুজ শিপু ও কামরুন নাহার; নিউ জার্সির তোহেল ইসলাম, শরিফুল পারভেজ তপু, মোস্তাফুল হক টুটুল ও মোর্শেদ আহমেদ; মেরিল্যান্ডের কলিমুল্লাহ ও নির্মল গোমেজ; কানেকটিকাটের সুব্রত বণিক ও কামরুল চৌধুরী এবং জর্জিয়ার নজরুল চৌধুরী।

সম্পূর্ণ আয়োজনটি ছিল বৈচিত্র্যে ভরপুর। অতিথিদের জন্য ছিল সুস্বাদু ও বাহারি খাবারের সমৃদ্ধ আয়োজন। পাশাপাশি মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ছিল গান, কবিতা আবৃত্তি এবং নানা বিনোদনমূলক পর্ব, যা অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য করে তোলে।

সুসজ্জিত বলরুমে অনুষ্ঠিত হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব- সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মিউজিক নাইট। দেশবরেণ্য সঙ্গীত শিল্পী চুরাশিয়ান রিজিয়া পারভীন, নিউইয়র্কের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী হাসান মাহমুদ, ঝুলন সেন, দীপক দাস, খালেদ সরকার, মহুয়া আহমেদ, আলভান চৌধুরীর কন্ঠে অসাধারণ সব গান দর্শক দারুণভাবে উপভোগ করেন। কবিতা আবৃত্তি করেন আবদুল্লাহ আল মাহের, মাহফুজ শিপু ও শোয়েব মজুমদার। মহামিলন উপলক্ষে “বন্ধু চল্ আড্ডা দিই ” নামে চুরাশিয়ানদের পরিচিতি, স্মৃতি ও বিভিন্ন তথ্য সংবলিত একটি স্মারক ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রতিটি চুরাশিয়ানকে একটি করে স্মারক উপহার এবং কোট পিন প্রদান করা হয়।

শ্রীলঙ্কা থেকে আগত চুরাশিয়ান হীরা ডী সেরাম অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “এটি শুধু একটি পুনর্মিলনী ছিল না; এটি ছিল ১৯৮৪ সালের সেই সোনালি স্কুলজীবনকে আবার নতুন করে ফিরে পাওয়ার এক আবেগঘন মুহূর্ত।” মহামিলনের কনভেনর শাম্স চৌধুরী রুশো বলেন, “বাফেলো, টেক্সাস ও টরন্টোর সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় নিউইয়র্কও আমাদের বন্ধুত্বের ইতিহাসে আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই বন্ধন ভবিষ্যতেও আরও শক্তিশালী হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।” অংশগ্রহণকারীরা জানান, ভৌগোলিক দূরত্ব যতই থাকুক না কেন, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও স্মৃতির টানই তাঁদের বারবার একত্রিত করে। সবার উপস্থিতিতে কন্ঠভোটের মাধ্যমে ২০২৭ সালের মহামিলনের ভেন্যু নির্ধারিত হয় ফ্লোরিডায়।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed