যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ অভিবাসীদের আটক রাখতে নতুন গুদাম কেনার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছে। সংস্থাটির দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক হতে পারে এবং নতুন নেতৃত্বের নীতিমালা পর্যালোচনার সুযোগ করে দিতেই এ বিরতি নেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলেন, নতুন করে গুদাম কেনা বন্ধ থাকলেও ইতোমধ্যে যেসব স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোকে আটককেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন দায়িত্ব নেওয়া স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান অভিবাসন নীতি ও আটক ব্যবস্থাপনায় কোনো পরিবর্তন আনবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের কাছে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসন ইস্যুতে ভোটারদের একটি বড় অংশ সরকারের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট নয়। বিশেষ করে পূর্ববর্তী নেতৃত্বের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েনের সিদ্ধান্ত সমালোচনার মুখে পড়ে।
২০২৬ সালের বসন্ত নাগাদ দেশজুড়ে মোট ১১টি বড় গুদাম কেনা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুরো পরিকল্পনার ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এসব গুদামকে বড় আকারের আটককেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা ছিল, যেখানে প্রতিটি স্থাপনায় প্রায় ৮ হাজার অভিবাসীকে রাখা সম্ভব।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের এক মুখপাত্র জানান, নতুন নেতৃত্বের পরিবর্তনের সময় সাধারণত সংস্থার নীতিমালা ও প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করা হয়। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তাদের মতে, এই বিরতি নতুন প্রধানকে আগের নীতিমালা খতিয়ে দেখার সুযোগ দেবে এবং প্রয়োজনে তা সংশোধন বা পরিবর্তন করার পথ তৈরি করবে। নতুন প্রধান সম্প্রতি শপথ গ্রহণ করেছেন এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অভিবাসন সংক্রান্ত নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে।
পূর্ববর্তী নেতৃত্বের সময়ে দেশজুড়ে বড় আকারের গুদাম কিনে সেগুলোকে আটককেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এসব কেন্দ্রের প্রতিটিতে হাজার হাজার অভিবাসীকে রাখার পরিকল্পনা ছিল, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দেয়।
বিশেষ করে যেসব এলাকায় এসব কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল, সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইনপ্রণেতারা আপত্তি জানান। একটি অঙ্গরাজ্যে আদালতের মাধ্যমে এমন একটি প্রকল্প বন্ধও করা হয়। অন্য একটি অঙ্গরাজ্যের একজন সিনেটরও তার এলাকায় পরিকল্পিত আটককেন্দ্র স্থাপনের সমালোচনা করেন। তার মতে, ওই স্থানটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য নির্ধারিত ছিল, সেখানে হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক আটক ব্যক্তিকে রাখা হলে স্থানীয় পরিস্থিতির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান তার শুনানির সময় বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প এগিয়ে নিতে হলে তিনি স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে অভিবাসন আটক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কিছু সরকারি ঠিকাদার নতুন গুদামগুলো নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বড় আকারের এসব স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, গুদাম কিনে অভিবাসীদের জন্য নতুন আটককেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা আপাতত থমকে থাকলেও বিষয়টি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। নতুন নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা পর্যালোচনার পর ভবিষ্যতে এ পরিকল্পনা আবারও চালু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





Add comment