আইসের নতুন প্রধান ভেঞ্চুরেলা আলোচনায়

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের কর্মকর্তা ভেঞ্চুরেলাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের এক মুখপাত্র মঙ্গলবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত মাসে সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লায়ন্সের বিদায়ের ঘোষণা আসার পর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব যাচ্ছে আইসের অভিজ্ঞ এই কর্মকর্তার হাতে।

ভেঞ্চুরেলা এর আগে আইসের ‘সিকিউর কমিউনিটিজ’ কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই কর্মসূচির আওতায় মূলত অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়ে কাজ করা হতো। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

এই কর্মসূচির অধীনে কারাগারে আটক প্রত্যেক ব্যক্তির ডিজিটাল আঙুলের ছাপ ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হতো। এরপর সেই তথ্য ব্যবহার করে দেশটিতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারীদের শনাক্ত করা হতো। তবে কর্মসূচিটি নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল।

২০১৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রশাসন এই কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। সে সময় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী জনসন এক স্মারকে উল্লেখ করেছিলেন, কর্মসূচিটি অভিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পর্কের অবনতি ঘটাচ্ছে।

তবে পরে ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ২০১৭ সালে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আবারও ‘সিকিউর কমিউনিটিজ’ কর্মসূচি চালু করেন। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে কঠোর করার প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসন তখন ব্যাপক অভিযান পরিচালনা শুরু করে।

ভেঞ্চুরেলার কর্মজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো বেসরকারি কারাগার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জিও গ্রুপে তাঁর দায়িত্ব পালন। ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি প্রতিষ্ঠানটির ক্লায়েন্ট সম্পর্ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ছিলেন। সরকারি নথি অনুযায়ী, আইসের সঙ্গে জিও গ্রুপের এক বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের চুক্তি রয়েছে।

অবসর নেওয়ার পরও ভেঞ্চুরেলা ওই প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে জমা দেওয়া এক নথিতে বলা হয়, তিনি নতুন ও বিদ্যমান চুক্তি বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে পরামর্শ দিতেন।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প গণহারে অভিবাসী বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় ফেরার পর সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন শহরে কঠোর অভিযান চালায় ফেডারেল কর্মকর্তারা।

লস অ্যাঞ্জেলেস, মিনিয়াপোলিস, শিকাগোসহ বিভিন্ন শহরে পরিচালিত এসব অভিযানে আইসের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। বিশেষ করে মিনিয়াপোলিস অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক গুড ও প্রেট্টির নিহত হওয়ার ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা রামিরেজ নতুন প্রধান হিসেবে ভেঞ্চুরেলার নিয়োগের বিরোধিতা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, এই নিয়োগের মাধ্যমে করপোরেট স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ থেকে ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়ার পথ আরও শক্তিশালী হবে।

অভিবাসনবিষয়ক কঠোর অভিযান নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকায় ট্রাম্প প্রশাসন কিছু কৌশল পরিবর্তনের উদ্যোগও নিয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গত এপ্রিলে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের দুই কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে জানান, আইস কর্মকর্তাদের বিচারকের স্বাক্ষর ছাড়া বাসাবাড়িতে প্রবেশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে প্রশাসনিক পরোয়ানার ভিত্তিতে বাসায় প্রবেশের যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছিল, তা অতীতের নীতিমালা থেকে ভিন্ন ছিল। ২০২৫ সালের একটি অভ্যন্তরীণ নথির মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, যা পরে হুইসেলব্লোয়াররা সিনেটর ব্লুমেনথালের কাছে পৌঁছে দেন।

ভেঞ্চুরেলা দায়িত্ব নিচ্ছেন লায়ন্সের স্থলাভিষিক্ত হয়ে। লায়ন্স আইসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ছিলেন, তবে কখনোই সিনেটের অনুমোদন পাননি। তাঁর বিদায়ের ঘোষণা আসে এপ্রিল মাসে এবং তাঁর শেষ কর্মদিবস নির্ধারণ করা হয় ৩১ মে।

লায়ন্সের সময়কাল ছিল অত্যন্ত আলোচিত ও অস্থির। ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে বড় ধরনের অভিবাসন অভিযান এবং মিনিয়াপোলিসে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এখন আইসের নতুন নেতৃত্বে আসছেন ভেঞ্চুরেলা।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed