৫০০ পাউরুটিতে তৈরি আলোচিত পোশাক

বিচিত্র উপকরণ দিয়ে তৈরি অভিনব পোশাক পরে লালগালিচায় হাজির হওয়া নতুন কিছু নয়। তবে এবার সেই তালিকায় ভিন্নমাত্রা যোগ করলেন নাইজেরিয়ার রিয়েলিটি টিভি তারকা আটাং। সম্প্রতি আফ্রিকা ম্যাজিক ভিউয়ার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে তিনি এমন একটি পোশাক পরে উপস্থিত হন, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনের আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

এ বছর নাইজেরিয়ার লাগোসে অনুষ্ঠিত হয় আফ্রিকা ম্যাজিক ভিউয়ার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডসের দ্বাদশ আসর। আফ্রিকার চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও ফ্যাশন জগতের অন্যতম বড় আয়োজন হিসেবে পরিচিত এই অনুষ্ঠানে প্রতিবছরই নজরকাড়া পোশাকে হাজির হন তারকারা। তবে এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন আটাং।

অনুষ্ঠানে তিনি যে পোশাক পরে আসেন, সেটি তৈরি করা হয়েছিল পাঁচ শতাধিক আস্ত পাউরুটি দিয়ে। অস্বাভাবিক এই পোশাক দর্শক ও আলোকচিত্রীদের দৃষ্টি মুহূর্তেই কাড়ে। লালগালিচায় উপস্থিত অনেকেই বিস্ময়ের সঙ্গে তাঁর পোশাকের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। কেউ ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, আবার কেউ ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন।

তবে নজরকাড়া এই পোশাক পরে হাঁটা মোটেও সহজ ছিল না। ভারী ও অস্বস্তিকর পোশাকের কারণে চলাফেরা করতে গিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েন এই রিয়েলিটি টিভি তারকা। লালগালিচায় হাঁটার সময় কয়েকজন সহকারী তাঁকে সহযোগিতা করেন। ধীরে ধীরে তিনি এগিয়ে যান এবং উপস্থিত অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান।

পরে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আটাং জানান, এই পোশাক পরার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজের বেকারি ব্যবসার প্রচার করা। তিনি বলেন, এটি কেবল মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য করা হয়নি; বরং পুরো বিষয়টি ছিল সুপরিকল্পিত একটি বিপণন কৌশল।

আটাংয়ের ভাষায়, নিজের ব্যবসাকে প্রচারের জন্য এই আয়োজনের চেয়ে উপযুক্ত জায়গা আর হতে পারে না। কারণ, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের তারকা, নির্মাতা, ফ্যাশন ব্যক্তিত্ব ও সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি বিশাল দর্শকগোষ্ঠীর নজরে থাকে।

এই আলোচিত পোশাকের নকশা করেছেন জনপ্রিয় ফ্যাশন ডিজাইনার লওয়ান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আটাংয়ের ছবির নিচে মন্তব্য করে তিনি জানান, নিজের ব্যবসাকে পোশাকের মাধ্যমে তুলে ধরার নতুন এক ধারা তৈরি করেছেন আটাং। তাঁর মতে, এটি শুধু ফ্যাশন নয়, বরং ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিংয়েরও অভিনব উদাহরণ।

অনুষ্ঠানের রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় আটাংয়ের ছবি ও ভিডিও। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাঁর পোশাক নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। অনেক ভক্ত এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং একে নিজের ব্যবসাকে সৃজনশীলভাবে উপস্থাপনের সাহসী উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

কেউ কেউ মন্তব্য করেন, এটি এমন এক প্রচারণা যেখানে একজন উদ্যোক্তা নিজের পণ্যকেই শিল্পের অংশে পরিণত করেছেন। আবার অনেকে এটিকে আধুনিক ফ্যাশনের ব্যতিক্রমী প্রকাশ হিসেবেও দেখেছেন।

তবে সবাই যে এই পোশাককে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন, তা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ব্যবহারকারী সমালোচনাও করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এত বিপুল পরিমাণ খাবার ব্যবহার করে পোশাক তৈরি করা খাদ্য অপচয়ের শামিল।

যদিও এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন আটাং। তাঁর দাবি, এটি পরিকল্পিত প্রচারণার অংশ এবং বিষয়টিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, মানুষের মধ্যে আলোচনা তৈরি করতেই তাঁর এই ব্যতিক্রমী উপস্থিতি সফল হয়েছে।

ফ্যাশন, ব্যবসা ও সামাজিক আলোচনার সংমিশ্রণে আটাংয়ের এই উপস্থিতি এবারের এএমভিসিএ আয়োজনের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দিয়েছে, বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং ও প্রচারণায় তারকারা কতটা সৃজনশীল এবং ভিন্নধর্মী পথ বেছে নিচ্ছেন।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed