নিউইয়র্ক টাইমসের কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা, আটক শ্বশুর-শাশুড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক নির্বাহীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে নিহত ব্যক্তির শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

৪০ বছর বয়সী নিহত ব্যক্তি নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস প্লেয়ার এক্সপেরিয়েন্স বিভাগের প্রকৌশল শাখার একজন পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশের তথ্যমতে, স্থানীয় সময় গত শনিবার বিকেলে সান ফ্রান্সিসকো থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার পূর্বে ডাবলিন শহরের একটি গাড়ি পার্কিং এলাকায় একাধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।

এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের দুজনেরই বয়স ৭৭ বছর। তাঁদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মাত্রার হত্যা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, চরম অবহেলার সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া এবং শিশুকে বিপদের মুখে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই দম্পতির পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োজিত আছেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি। আগামীকাল বুধবার তাঁদের আদালতে হাজির করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগের মুখোমুখি করা হবে।

নিহত ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নিউইয়র্ক টাইমস কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তাঁরা পরপর বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শোনার পর নিহত ব্যক্তিকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি দেখেছেন লোকটি মাটিতে পড়ে যান এবং তাঁর মাথা ও বুক রক্তাক্ত ছিল। ওই প্রত্যক্ষদর্শীর মেয়ে জানান, তাঁর বাবা অভিযুক্ত দম্পতিকে একসঙ্গে হাঁটতে এবং গুলি চালানোর পর স্বাভাবিকভাবেই হেঁটে চলে যেতে দেখেছেন।

ঘটনার কয়েক মিনিট পর ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তা ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হামলার পরও অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলের কাছাকাছিই অবস্থান করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই নিহত ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করা হয়, তবে হত্যার প্রকৃত কারণ বা সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া দম্পতিকে বর্তমানে স্থানীয় একটি কারাগারে রাখা হয়েছে।

একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বয়স্ক এই দম্পতির মেয়ের সঙ্গে নিহত ব্যক্তির বিবাহবিচ্ছেদের মামলা আদালতে বিচারাধীন ছিল, যার শুনানির তারিখ ছিল ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ পর। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁরা ২০১২ সাল থেকে বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিহত ব্যক্তির স্ত্রীর নামে থাকা ফোন নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা থেকে সৃষ্ট সহিংসতার এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed