জাতিসংঘ অধিবেশনে ইরানকে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ২২ সেপ্টেম্বর প্রায় ৩৭ মিনিটের ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত, ভেনেজুয়েলা, কিউবা, গ্রিনল্যান্ড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরেছেন। ভাষণের বড় অংশজুড়ে ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পক্ষে ট্রাম্পের যুক্তি। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির সম্ভাবনার কথা বললেও চুক্তি না হলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন।

ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসন শুধু আলোচনা বা কূটনৈতিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটে সরাসরি পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরান থেকে ভেনেজুয়েলা এবং গ্রিনল্যান্ড থেকে ইউক্রেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তি ব্যবহারের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি নিজের পররাষ্ট্রনীতির ব্যাখ্যা দেন।

ভাষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ইরান। ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিই তাঁর প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, সামরিক পদক্ষেপের ফলে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার ওপর আঘাত করা হয়েছে এবং তেহরানকে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তবে ইরানকে নিয়ে তাঁর বক্তব্যে সামরিক হুমকির পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখার ইঙ্গিত ছিল। ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি একটি চুক্তিতে রাজি হয়, তাহলে দেশটি নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। অর্থাৎ তাঁর বক্তব্যে একদিকে সমঝোতার সম্ভাবনা, অন্যদিকে সামরিক চাপ—দুই ধরনের বার্তাই ছিল।

ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তাঁর সামনে একটি বড় সিদ্ধান্ত রয়েছে ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি হবে কি না, যার মাধ্যমে দেশটি পুনর্গঠন করে নতুন ভবিষ্যতের দিকে যেতে পারবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেবে। তিনি ইরানের ইসলামিক রিপাবলিককে অ্যানিহিলেট বা ধ্বংস করার সম্ভাবনার কথাও প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানকে এমন অবস্থায় যেতে দেওয়া হবে না, যেখানে তারা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য দেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।তবে ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা সময়সীমা তিনি ঘোষণা করেননি। তাঁর বক্তব্যে মূলত তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং সম্ভাব্য চুক্তির জন্য একটি কঠোর অবস্থায় তুলে ধরা হয়।

ট্রাম্প বিশ্বের অন্যান্য দেশকেও ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি ইরানের ওপর ‘সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিছিন্নতা কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চান। তাঁর যুক্তি হলো, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো হলে দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা গেলে জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনের ওপর ইরান-সংক্রান্ত সংকটের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, সংঘাতের কারণে তেলের দাম বেড়েছে। তাঁর মতে, ইরানের ওপর চাপ বাড়লে এবং জ্বালানি পরিবহনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তেলের দাম আবার কমে আসতে পারে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed