গ্রিনকার্ড মূল্যায়নে মেডিকেইড, ফুড স্ট্যাম্প বিবেচনায় নেবে প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিনকার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় আবারও বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনছে ট্রাম্প প্রশাসন| ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসনের জারি করা পাবলিক চার্জ-সংক্রান্ত বিধিমালা বাতিল করে নতুন একটি চূড়ান্ত বিধি জারি করেছে| নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর কর্মকর্তারা গ্রিনকার্ড, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ কিংবা নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন সুবিধার আবেদন মূল্যায়নের সময় আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আয়, সম্পদ, কর্মসংস্থান ও আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি অতীতে মেডিকেইড, এসএনএপি (ফুড স্ট্যাম্প), সরকারি আবাসন সহায়তা বা অন্যান্য আয় ও সম্পদ যাচাই ভিত্তিক সরকারি সুবিধা গ্রহণের ইতিহাসও বিবেচনায় নিতে পারবেন|

ফেডারেল রেজিস্টারে নিয়মটি প্রকাশের পর ৬০ দিন পর্যন্ত এটি কার্যকর হবে না| ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, এ সময়ের মধ্যে নতুন আবেদনপত্র ফর্ম আই-৪৮৫, সংশ্লিষ্ট নীতিমালা, কর্মকর্তাদের নির্দেশিকা এবং অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালি হালনাগাদ করা হবে| ফলে নতুন পাবলিক চার্জ মূল্যায়ন কাঠামো সেপ্টে¤^র থেকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে| ইউএসসিআইএসের পরিচালক জোসেফ বি এডলো এক বিবৃতিতে বলেন, ফেডারেল সরকার আবারও আত্মনির্ভরশীলতার নীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে এবং করদাতাদের অর্থের ওপর নির্ভরশীলতাকে উৎসাহিত করে এমন নীতির অবসান ঘটাচ্ছে| তার ভাষায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের নিজেদের আর্থিকভাবে টিকে থাকার সক্ষমতা থাকা উচিত—এ মৌলিক নীতিই পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে|

বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলে তাকে পাবলিক চার্জ হিসেবে বিবেচনা করে ভিসা, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা গ্রিনকার্ডের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে| ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসন এ মূল্যায়নকে মূলত নগদ কল্যাণ ভাতা এবং সরকার-অর্থায়িত দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক পরিচরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিল| নতুন বিধি সেই সীমাবদ্ধতা তুলে দিয়ে কর্মকর্তাদের আরো বিস্তৃত বিবেচনার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে| তবে ডিএইচএস স্পষ্ট করেছে, মেডিকেইড, এসএনএপি বা অন্য কোনো সরকারি সুবিধা গ্রহণের ঘটনা একাই কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যানের কারণ হবে না; বরং প্রতিটি আবেদন আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে|

 

নতুন বিধি অনুযায়ী কর্মকর্তারা আবেদনকারীর বয়স, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আয়, সম্পদ, আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট (ফর্ম আই-৮৬৪) এবং অতীতে সরকারি সুবিধা গ্রহণের ইতিহাসসহ সব প্রাসঙ্গিক তথ্য একত্রে বিবেচনা করবেন| ইউএসসিআইএস আরো জানিয়েছে, পরিবারের অন্য সদস্য সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলে সেটিকে সরাসরি আবেদনকারীর সুবিধা হিসেবে গণ্য করা হবে না| তবে যদি দেখা যায় আবেদনকারী নিজে পরিবারের ব্যয় বহনে সক্ষম নন অথবা ওই সুবিধা পরোক্ষভাবে আবেদনকারীকেই সহায়তা করছে, তাহলে সেটি আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা মূল্যায়নের অংশ হতে পারে|

ডিএইচএসের ২০২৫ সালের নিয়ন্ত্রক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদনকারী প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট আবেদনকারী এ মূল্যায়নের আওতায় পড়তে পারেন| এ হিসাবের মধ্যে বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে অভিবাসী ভিসার আবেদনকারী কিংবা সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনকারীরা অন্তর্ভুক্ত নন| ফলে বাস্তবে নতুন নীতির প্রভাব আরো বিস্তৃত হতে পারে|

তবে আইন অনুযায়ী সব অভিবাসী এ পরীক্ষার আওতায় পড়বেন না| শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী, স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট জুভেনাইল, মানবপাচারের শিকার টি ভিসা আবেদনকারী, অপরাধের শিকার ইউ ভিসা আবেদনকারী, ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন অ্যাক্ট (ভাওয়া)-এর আওতায় স্বপিটিশনকারী এবং কংগ্রেসের মাধ্যমে অব্যাহতি পাওয়া অন্যান্য মানবিক শ্রেণির আবেদনকারীরা আগের মতোই পাবলিক চার্জ বিধান থেকে অব্যাহতি পাবেন|

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed