যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৬০টি প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্কারোপ করছে| বাংলাদেশ তাদের একটি| প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে| ঠিক এমন সময়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, যখন অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হচ্ছে|
বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৯.৪ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে| তবে তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে| প্রশাসনের মতে, ৩০১ ধারার আওতায় নেওয়া এই পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি আগের শুল্কের তুলনায় শক্তিশালী| কারণ অতীতেও এই ধারা আদালতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টিকে গেছে|
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য একটি অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করেছিল, যার মেয়াদ শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে (ইডিটি) শেষ হবে| একই সময় থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে| তবে ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট (ইডিটি) পর্যন্ত পরিবহনাধীন পণ্যগুলো নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে না|
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক শতাব্দী ধরে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করে আসছে| এখন সময় এসেছে বাণিজ্য অংশীদাররাও একই মানদণ্ড অনুসরণ করার| তার ভাষায়, এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যিক চর্চা মোকাবিলার পাশাপাশি শ্রমিকদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে|
গ্রিয়ার আরও বলেন, যেসব দেশ এরই মধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন শুল্কের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন এই শুল্ক সেই সীমা অতিক্রম করবে না| কারণ এসব চুক্তিতে জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে|
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে|
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২.৫ শতাংশ হবে| আর চীনসহ বাকি ৩৮টি দেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক| ওয়াশিংটনের আইন প্রতিষ্ঠান ওয়াইলি রেইনের বাণিজ্য আইনজীবী টিম ব্রাইটবিল বলেন, নতুন শুল্ক মূলত বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত বর্তমান শুল্ক কাঠামোর সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি মেয়াদ শেষ হওয়া ১০ শতাংশ শুল্কের স্থান নেবে|
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন| তার দাবি, নতুন শুল্ক কেবল আগের শুল্কের বিকল্প নয়| বরং যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমে ˆতরি পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার অংশ হিসেবে এটি চালু করা হয়েছে| তার মতে, অন্য দেশগুলো এ ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থানে থাকায় তারা অন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা পাচ্ছে|
ওই কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প প্রশাসন প্রয়োজনে শুল্কসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক উপায় ব্যবহার করে নীতিগত লক্ষ্য অর্জন করবে| নতুন শুল্ক থেকে তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য এবং গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার মতো যেসব পণ্যের ওপর আগে থেকেই ২৩২ ধারার আওতায় জাতীয় নিরাপত্তাজনিত শুল্ক রয়েছে, সেগুলো অব্যাহতি পাবে|





Add comment