যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র গরম ও উচ্চ আর্দ্রতা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবার সতর্কতা অনুযায়ী, প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ মানুষ এই তাপপ্রবাহের প্রভাবে রয়েছেন। কিছু এলাকায় প্রকৃত তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছাতে পারে, আর আর্দ্রতা যোগ হয়ে শরীরে অনুভূত তাপমাত্রা ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা ‘হিট ডোম’ বা তাপ-গম্বুজ পরিস্থিতির কথা বলছেন। এতে একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় দীর্ঘ সময় ধরে কোনো অঞ্চলের ওপর অবস্থান করে এবং নিচের স্তরে গরম ও আর্দ্র বাতাস আটকে রাখে। ফলে দিনের তাপমাত্রা যেমন বাড়ে, তেমনি রাতেও পর্যাপ্ত ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ থাকে না।
বিশেষ করে সেন্ট্রাল প্লেইনস, সাউদার্ন প্লেইনস, লোয়ার মিসিসিপি ভ্যালি এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব এলাকার একাধিক অঙ্গরাজ্যে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি বা তার ওপরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে তাপের চাপ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
রাতেও মিলছে না স্বস্তি এই তাপপ্রবাহের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো রাতের তাপমাত্রাও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকা। কিছু শহরে রাতের তাপমাত্রা প্রায় ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত থাকতে পারে। ফলে দিনের প্রচণ্ড গরমের পর শরীর রাতে স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ কম পাচ্ছে। এতে দীর্ঘময় ধরে তাপের সংস্পর্শে থাকা মানুষের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় তীব্র গরম স্কুলগুলোর জন্যও বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কোথাও শিক্ষার্থীদের বাইরের কার্যক্রম সীমিত করা হচ্ছে। দক্ষিণ ক্যারোলিনায় অতিরিক্ত গরমের কারণে ফুটবল দলের অনুশীলনী ম্যাচ বাতিলের ঘটনাও ঘটেছে।
বাইরে কাজ করা শ্রমিক, নির্মাণকর্মী, কৃষিশ্রমিক এবং দীর্ঘসময় রোদে থাকা ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।গরমের সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
আগস্টের শেষভাগেও গরমের আশঙ্কাতা প্রবাহটি খুব দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনাও কম। জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার সম্ভাবনা রয়েছে। সেন্ট্রাল ও সাউদার্ন গ্রেট প্লেইনস, মিসিসিপি ভ্যালি ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সমন্বিত অনুভূতি ১০৫ থেকে ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি হতে পারে।
চলতি তাপপ্রবাহের গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ ২০২৬ সালের জুলাই ছিল সংলগ্ন ৪৮ অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ মাস। এনওএএ-এর হিসাবে জুলাইয়ে গড় তাপমাত্রা ছিল ৭৬ দশমিক ৮৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট, যা ১৮৯৫ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ড ছিল ১৯৩৬ সালের জুলাইয়ের।





Add comment