নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সদ্য পাস হওয়া অভিবাসন আইনকে চ্যালেঞ্জ করে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন| ইউ এস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (ডিওজে) অভিযোগ করেছে, ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে হস্তক্ষেপ করে নিউইয়র্ক আইনসভা তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে| ২২ জুন সোমবার নিউইয়র্কের বাফেলোর ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় বিচার বিভাগ দাবি করে, ২৭৭ বিলিয়ন ডলারের স্টেটের বাজেটের অংশ হিসেবে গৃহীত নতুন আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সুপ্রিমেসি ক্লজ বা ফেডারেল আইনের সর্বোচ্চতার নীতির পরিপন্থী| ওই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো স্টেট ফেডারেল সরকারের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ বা সীমাবদ্ধ করতে পারে না|
এর জবাবে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস পৃথক পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন, যাতে আইনটি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কার্যকর করা যায়| দুই পক্ষের আইনি লড়াই মূলত নতুন আইনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানকে ঘিরে| প্রথম বিধান অনুযায়ী, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা-যার মধ্যে আইস এজেন্টরাও অন্তর্ভুক্ত| দায়িত্ব পালনকালে এবং জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের সময় মুখ ঢেকে রাখতে পারবেন না| তবে গোপন অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে| আইনটির এই অংশ চলতি সপ্তাহেই কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে| দ্বিতীয় বিধানটি স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও আইসিইর মধ্যে তথাকথিত ২৮৭(জি) সহযোগিতা চুক্তি নিষিদ্ধ করেছে| এই চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় পুলিশ বা শেরিফ অফিসগুলো নির্দিষ্ট অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমে ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে পারে| ইউ এস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস-এর মতে, এই দুটি ব্যবস্থাই অভিবাসন আইন কার্যকরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে| মামলায় বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের আইন ফেডারেল আইন প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক|
গভর্নর হোচুল আইনটির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন| তিনি বলেন, একটি ব্যাজের সঙ্গে জনগণের আস্থা রক্ষার দায়িত্ব জড়িত| নিউইয়র্কবাসীর জানার অধিকার রয়েছে কে তাদের কমিউনিটিতে আইন প্রয়োগ করছে এবং স্থানীয় সম্পদ জননিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে কি না| সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আইসিই এজেন্টদের মুখোশ ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপকারী আইন পাস হয়েছে| বিচার বিভাগ ইতোমধ্যে নিউ জার্সি, কানেকটিকাট এবং ক্যালিফোর্নিয়ার অনুরূপ আইনগুলোকেও আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে| ক্যালিফোর্নিয়ার আইন একটি ফেডারেল আদালত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে, কারণ বিচারকের মতে সেটি ফেডারেল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ˆবষম্যমূলক হতে পারে|
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্তবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা টম হোমান হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে নিউইয়র্কে আরও বেশি আইসিই এজেন্ট মোতায়েন করা হতে পারে| তার দাবি, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতা না পাওয়ায় অভিবাসন আইন কার্যকরে অতিরিক্ত জনবলের প্রয়োজন হচ্ছে| তবে গভর্নর হোকুল বলেছেন, এমন পদক্ষেপ নিউইয়র্কের অর্থনীতি ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে|





Add comment