যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানল ‘বাভি’

ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার বেগের ভয়ংকর ঝড় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’| প্রবল ঝড় ও ভারি বৃষ্টিতে এই দ্বীপপুঞ্জে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে|

কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, এই ঝড়ে ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে এবং সমুদ্রে প্রায় ১১ মিটার উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে| বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার গতির বাতাস এবং ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়া নিয়ে ঝড়টি গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে অতিক্রম করছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে| সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ এই ঝড় ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে আনতে পারে| সমুদ্রে প্রায় ১১ মিটার উচ্চতার ঢেউও সৃষ্টি হতে পারে|

এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থাকে জানিয়েছেন, নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে| মূলত পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত| তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বীপগুলোতে এত শক্তিশালী ঝড় খুব একটা দেখা যায় না| বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের শক্তিশালী টাইফুনের ঘটনা বাড়ছে|
অবশ্য ঝড় আঘাত হানার আগে বহু বাসিন্দা জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান এবং শেষ মুহূর্তের নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি নেন| এনডব্লিউএস জানিয়েছে, নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে দক্ষিণের জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ রোটাতে সরাসরি আঘাত হেনেছে টাইফুনটি| এটি গুয়াম থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত|

রোটার মেয়র কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা করছি| এখানে প্রবল বাতাস ও বন্যা হচ্ছে’| তিনি জানান, অনেকেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন|
রোটার উত্তরে সাইপান দ্বীপের বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারের বেশি গতির দমকা বাতাস রেকর্ড করা হয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মার্কাস ল্যান্ডন আইডলেট| তিনি বলেন, গত এপ্রিলে সুপার টাইফুন ‘সিনলাকু’র আঘাতে অনেক মানুষ এখনও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন| ওই ঝড়ে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ১৭ জন নিহত হন এবং প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়|
প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার মানুষের বসবাসকারী পর্যটনকেন্দ্র গুয়ামে পাঁচটি স্কুলে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে| এসব কেন্দ্রে সর্বোচ্চ প্রায় এক হাজার ৭০০ জন থাকতে পারবেন| মূলত ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের জন্যই এগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে|

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed