নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে মাত্র ১৩ ভোটে হারলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামসুল হক

জয়ের একদম শেষ প্রান্তে এসেও শেষ রক্ষা হলো না। নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির ৩০তম ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে অত্যন্ত চমৎকার লড়াই করেও অল্পের জন্য জয় হাতছাড়া করেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী শামসুল হক। চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে মাত্র ১৩ ভোটের ন্যূনতম ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। এই সামান্য ভোটের ব্যবধান স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে যেমন বড় ধরনের আক্ষেপ তৈরি করেছে, তেমনি নিউইয়র্কের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান শক্তির একটি জোরালো বার্তাও দিচ্ছে।

নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশনের অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা যায়, নির্বাচনী লড়াইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে সেয়ানে সেয়ানে টক্কর চলেছে। চূড়ান্ত গণনা শেষে বিজয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী প্যাট্রিক মার্টিনেজ পেয়েছেন ২,৭০৩ ভোট, যা মোট কাস্টিং ভোটের ৪২.৬৬ শতাংশ। অন্যদিকে, বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রিয় মুখ শামসুল হকের ঝুলিতে পড়েছে ২,৬৯০ ভোট, যা শতাংশের হিসাবে ৪২.৪৬ শতাংশ। অর্থাৎ, জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার থেকে মাত্র এক ডজন খানেক ভোট দূরে ছিলেন তিনি। এছাড়া এই আসনের তৃতীয় প্রতিদ্বন্দ্বী সোমনাথ ঘিমিরে ৬৮৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন।

নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, ৩০তম অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্টে এই দফায় মোট কাস্টিং ভোটের সংখ্যা ছিল ৬,৩৩৬টি। শতাংশের এই সামান্যতম ব্যবধানই প্রমাণ করে যে, শামসুল হকের প্রচারণা কতটা শক্তিশালী ও ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পেরেছিল। নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশন নিশ্চিত করেছে যে, এই ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্গত মোট ৫৭টি নির্বাচনী এলাকার সবকটির ভোট গণনা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য, এই আসনে মোট নিবন্ধিত ও সক্রিয় ডেমোক্র্যাট ভোটারের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৬০ জন হলেও সেই তুলনায় মূল ভোটের দিন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি আশানুরূপ ছিল না, যা সামগ্রিক ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।

নির্বাচনের এই ফলাফল প্রকাশের পর নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সাধারণ মানুষ ও political বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই গভীর দুঃখ প্রকাশ করে মন্তব্য করছেন, প্রবাসীদের সচেতনতা যদি আরেকটু বেশি হতো এবং আর মাত্র কয়েকটি পরিবার কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতো, তবে আজ ফলাফল সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত। সামান্য অলসতা বা অসচেতনতার কারণে এত বড় একটি সম্ভাবনা হাতছাড়া হওয়াকে একটি বড় শিক্ষা হিসেবে দেখছেন অনেকে।

তবে এই পরাজয়ের মধ্যেও একটি বড় ইতিবাচক দিক দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বোদ্ধারা। তাদের মতে, নিউইয়র্কের মূলধারার রাজনীতিতে যেখানে জায়গা করে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন, সেখানে মাত্র ১৩ ভোটের ব্যবধানে রানার্স-আপ হওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি প্রমাণ করে যে, আমেরিকার স্থানীয় রাজনীতিতে এখন আর বাংলাদেশিদের অবহেলা করার সুযোগ নেই। এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই আগামী দিনে আরও বেশি বাংলাদেশি তরুণ ও যোগ্য প্রার্থীদের মার্কিন রাজনীতিতে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed