জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের বিরুদ্ধে আবার নির্বাহি আদেশ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৬ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই আদেশের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্মদানের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী দেশটির ভূখণ্ড, জলসীমা বা আকাশসীমার মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকার পায়। ১৮৬৮ সালে গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গৃহীত এই সংশোধনীর মাধ্যমে দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর সাবেক ক্রীতদাসদের সন্তানদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বহু দম্পতি শুধুমাত্র সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করছেন। প্রশাসনিক ভাষায় এই প্রবণতাকে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বলা হয়।

নতুন আদেশের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বরাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার বলেন, এই পদক্ষেপের ফলে বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য এবং নাগরিকত্ব লাভের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে আগ্রহী ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন।

নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আমাদের জন্মগত নাগরিকত্বকে তারা পুরোপুরি কৌতুক বানিয়ে ফেলেছে। দশকের পর দশক ধরে এই ধারার অপব্যবহার হচ্ছে এবং এটা বন্ধ করা আমাদের দায়িত্ব।

অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ সালের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অন্তত ২০ থেকে ২৫ হাজার দম্পতি সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। সংস্থাটির দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এ উদ্যোগ নতুন নয়। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরপরই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ফেডারেল আদালত ওই উদ্যোগে স্থগিতাদেশ দেন এবং আদেশটিকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন।
পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলেও গত ৩০ জুন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সেই আপিল খারিজ করে দেয়। নয় সদস্যের বেঞ্চের ছয়জন বিচারপতি আপিলের বিপক্ষে মত দেন।

এদিকে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ নিয়েও আইনি জটিলতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে মানবাধিকারভিত্তিক মার্কিন-স্প্যানিশ সংগঠন ইউনিডোস ইউএস-এর নির্বাহী ডেবোরাহ ফ্লেইসচাকার রয়টার্সকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই প্রথা চালু রয়েছে এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সুপ্রিম কোর্টও এ বিষয়ে সাংবিধানিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ফলে ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed