কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ব্যবহারের প্রসার যত বাড়ছে, ততই ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। অনেক ব্যবহারকারী অজান্তেই বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করে ফেলেন, যা পরবর্তীতে ঝুঁকির কারণ হতে পারে। ই–মেইল ঠিকানা, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য কিংবা ব্যক্তিগত অভ্যাস—এসব তথ্য সাধারণ কথোপকথনের মধ্যেই প্রকাশ পেয়ে যেতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে এসব তথ্য মুছে ফেলা, নিজের ডেটার কপি সংগ্রহ করা বা পুরো অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে অপসারণের সুযোগ রেখেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।
প্রযুক্তিবিদদের মতে, অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য অপসারণের অনুরোধ না জানালে ব্যবহারকারীর কিছু তথ্য ও কথোপকথনের ইতিহাস সংরক্ষিত থাকতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারী আলাদাভাবে নিষ্ক্রিয় না করলে তাদের দেওয়া নির্দেশনা ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল উন্নয়নে ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রাইভেসি পোর্টাল চালু করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের তথ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন অনুরোধ জানাতে পারেন। এখানে অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা, কাস্টম জিপিটি অপসারণ, কিংবা নিজের কনটেন্ট ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণে ব্যবহার না করার আবেদন করা সম্ভব। এছাড়া ব্যবহারকারীরা জানতে পারেন, তাদের সম্পর্কে কী ধরনের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সেই তথ্যের একটি কপি ডাউনলোড করতে পারেন।
এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রথমে প্রাইভেসি পোর্টালে প্রবেশ করে ‘মেক আ প্রাইভেসি রিকোয়েস্ট’ অপশনে ক্লিক করতে হয়। কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের জন্য এটি সাধারণত পেজের উপরের ডান পাশে থাকে, আর মোবাইল ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে নিচের দিকে দেখা যায়। এরপর পরিচয় যাচাইয়ের ধাপ সম্পন্ন করতে হয়, যেখানে সরকারি পরিচয়পত্র বা বহুমাত্রিক যাচাইকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে নিশ্চিত করা হয়।
পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন বিকল্প থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি নির্বাচন করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত তথ্য ডাউনলোড, কনটেন্ট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, অ্যাকাউন্ট অপসারণ, কাস্টম জিপিটি মুছে ফেলা বা চ্যাটজিপিটির উত্তরে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য সরানোর অনুরোধ। সবশেষে নিজের অবস্থান উল্লেখ করে অনুরোধ জমা দিলেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।
অন্যদিকে, অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ মুছে না ফেলেও কিছু সেটিংস পরিবর্তনের মাধ্যমে গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব। ব্যবহারকারীরা সেটিংসের ডেটা কন্ট্রোল অপশনে গিয়ে ‘ইমপ্রুভ দ্য মডেল ফর এভরিওয়ান’ ফিচারটি বন্ধ করতে পারেন। এতে তাদের কথোপকথন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে না।
একইভাবে মেমোরি ফিচার বন্ধ রাখার মাধ্যমেও ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ সীমিত করা যায়। সংবেদনশীল আলোচনার ক্ষেত্রে টেম্পোরারি চ্যাট ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই সুবিধায় করা কথোপকথন সাধারণত স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয় না এবং প্রশিক্ষণেও ব্যবহার করা হয় না, যদিও কিছু তথ্য সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকতে পারে।
এছাড়া ব্যবহারকারীরা চাইলে পুরোনো চ্যাট আলাদাভাবে মুছে ফেলতে পারেন। চ্যাট তালিকা থেকে নির্দিষ্ট কথোপকথন নির্বাচন করে সহজেই এটি করা যায়। সাধারণত এসব তথ্য ৩০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে সিস্টেম থেকে মুছে যায়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় সচেতন থাকা জরুরি। সঠিক সেটিংস ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের গোপনীয়তা অনেকটাই নিশ্চিত করতে পারেন।





Add comment