ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের ‘ফ্রি স্পিচ’ বিতর্কে নতুন মোড়

মার্কিন রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যেখানে ট্রাম্প এবং তার পার্টি নিজেকে এক সময়ের ‘ক্যানসেল কালচারের’ শিকার থেকে এখন তা প্রয়োগকারীর ভূমিকায় দেখাচ্ছে। পাঁচ বছর আগে, রিপাবলিকান কংগ্রেসে ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছিলেন যে সমাজের অনেক মানুষ তাদের মত প্রকাশ করার জন্য ‘ক্যানসেল’ করা হচ্ছে, এবং তিনি সেই বঞ্চিতদের পক্ষে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তবে কনজারভেটিভ অ্যাক্টিভিস্ট চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিসরে ফ্রি স্পিচ ও ‘ক্যানসেল কালচারের’ সীমারেখাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। সম্প্রতি ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা এবং প্রশাসন কর্মকর্তারা বিভিন্ন মিডিয়া আউটলেট এবং ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন, যারা কার্কের মৃত্যু নিয়ে সমালোচনা করেছে।

ডিসনির মালিকানাধীন “জিমি কিমেল লাইভ!” শোটি সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা স্বাধীন মত প্রকাশের সীমা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এ সময়, ট্রাম্প শো বন্ধ হওয়ার ঘটনাকে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে উদযাপন করেছেন।

উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সের মতে, ফ্রি স্পিচ সংবিধান অনুযায়ী সুরক্ষিত থাকলেও কার্কের মৃত্যুর জন্য আনন্দ প্রকাশ করা ব্যক্তিদের চাকরি হারানো স্বাভাবিক। যদিও তিনি অতীতে সোশ্যাল মিডিয়ার “মূর্খ পোস্ট” নিয়ে কিশোরদের জীবনে বড় প্রভাব না ফেলার পক্ষে ছিলেন, বর্তমানে তিনি কঠোর মনোভাব নিয়েছেন।

ফ্রিডম অফ স্পিচ নিয়ে এই নতুন মনোভাবের কারণে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা রিপাবলিকানদের দ্বৈতমানের অভিযোগ তুলছেন। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ওবামা উল্লেখ করেছেন, “বছরের পর বছর ক্যানসেল কালচারের সমালোচনা করার পর, বর্তমান প্রশাসন মিডিয়া সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করার হুমকি দিচ্ছে।”

এই বিতর্কে কনজারভেটিভ এবং ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষই নতুন বিতর্কে নিজেদের অবস্থান জোরদার করছে। একদিকে ট্রাম্প ও তার মিত্ররা ‘পরিণতি সংস্কৃতি’ রক্ষার দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে সমালোচকরা এটিকে সশরীরে ফ্রি স্পিচের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

এই ঘটনাগুলো মার্কিন রাজনীতিতে ফ্রি স্পিচ, মিডিয়ার স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সমন্বয় নিয়ে বড় প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed