যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে একটি এস্টেট সেলে ঘুরে ঘুরে ধুলোবালি ঘেঁটে মাত্র ৩০ ডলার দিয়ে পুরোনো একটি চিত্রকর্ম কিনেছিলেন এক রত্ন সংগ্রাহক, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য ছিল মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৬৮০ টাকার সমান। সে সময় হয়তো তিনি নিজেও কল্পনা করেননি, পানির দরে কেনা এই সাধারণ ক্যানভাসটিই একদিন তাঁকে রাতারাতি কোটিপতি বানিয়ে দেবে।
এস্টেট সেলের অন্যান্য সাধারণ মালপত্রের মাঝে অবহেলায় পড়ে থাকা এই চিত্রকর্মটি আসলে শিকাগোর পরাবাস্তববাদী চিত্রশিল্পী গারট্রুড অ্যাবারক্রোমবির আঁকা একটি দুর্লভ কাজ, যা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ছিল। সম্প্রতি একটি নিলাম প্রতিষ্ঠান চিত্রকর্মটি নিলামে তোলে, যেখানে এটি বিক্রি হয়ে যায় সাড়ে ১৩ লাখ ডলারে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা সাড়ে ১৬ কোটি টাকারও বেশি।
এই বিক্রয়মূল্যের মাধ্যমে চিত্রকর্মটি গারট্রুড অ্যাবারক্রোমবির আঁকা শিল্পকর্মের মধ্যে এযাবৎকালের সবচেয়ে চড়া দামে বিক্রি হওয়া চিত্রকর্মের স্বীকৃতি পেয়েছে।
‘অল্ডারম্যান মেরিয়ামস সেলস’ শিরোনামের এই চিত্রকর্মটি শিল্পী ১৯৫১ সালে এঁকেছিলেন। নিলাম কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা ছিল, এটি ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে বিক্রি হতে পারে। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে চূড়ান্ত নিলামে প্রত্যাশিত দামের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়ে যায় চিত্রকর্মটি।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, ১৯৫২ সালে চিকিৎসাসেবার বিনিময়ে মিশিগানের কালামাজু শহরের একজন চিকিৎসককে এই চিত্রকর্মটি উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন শিল্পী নিজেই। এরপর প্রায় ৭৫ বছর ধরে চিত্রকর্মটি ওই চিকিৎসকের পরিবারের কাছেই সংরক্ষিত ছিল, ফলে এটি শিল্পজগতের নজরের বাইরে থেকে গিয়েছিল দীর্ঘদিন।
এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল, এস্টেট সেল বা পুরোনো জিনিসপত্রের নিলামের মতো সাধারণ জায়গাতেও লুকিয়ে থাকতে পারে অমূল্য শিল্পকর্ম, যা একজন আগ্রহী সংগ্রাহকের দক্ষ চোখ এড়িয়ে যায় না। শিল্পবাজার বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আকস্মিক আবিষ্কার শিল্পকর্মের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণে ইতিহাস, উৎস ও শিল্পীর পরিচিতির গুরুত্বকেও নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।





Add comment