জার্মান চ্যান্সেলরের আকস্মিক কিয়েভ সফরের মধ্যেই আজ রোববার ইউক্রেনের রাজধানীতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই হামলার মধ্যে নর্দান ব্রিজ নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর কিয়েভে পৌঁছানোর পরপরই পুরো শহরজুড়ে হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। রুশ ড্রোন হামলার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই কিয়েভের মেয়র জানান, রুশ হামলায় নর্দান ব্রিজের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিপ্রো নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি শহরের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সাম্প্রতিক সময়ে এই নদীর ওপর নির্মিত আরও বেশ কয়েকটি সেতুও একইভাবে হামলার শিকার হয়েছে।
বিভিন্ন বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপের চ্যানেলে প্রকাশিত ছবিতে সেতুটির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার এবং সেখান থেকে আগুনের গোলা উঠতে দেখা গেছে। বর্তমানে কিয়েভে দিনরাত ধরে চলছে একের পর এক হামলা, যেখানে আবাসিক এলাকা, জ্বালানি স্টেশন, স্কুল, রেলপথ ও বিভিন্ন যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে জার্মান চ্যান্সেলর মন্তব্য করেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রতি সবার সমর্থন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, রাশিয়াকে এখনই থামানো না গেলে একসময় তাদের যুদ্ধযন্ত্র ইউরোপের অন্য দেশগুলোর দিকেও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও সামরিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন, বিশেষ করে রাশিয়ার নতুন দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোন প্রতিহত করার জন্য উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চেয়েছেন তিনি। এই সফরকালে জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জার্মানির একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এই বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের একটি নতুন সামরিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হতে পারে।
জার্মান সূত্র অনুযায়ী, এই সহায়তা প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত থাকবে ড্রোন ও স্যাটেলাইট-সংক্রান্ত আধুনিক প্রযুক্তি, যা রাশিয়ার ড্রোন উৎক্ষেপণস্থলে পাল্টা হামলা চালাতে ইউক্রেনকে কার্যকর সহায়তা দেবে। পাশাপাশি জেটচালিত ড্রোন তৈরির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ উদ্যোগও এই প্যাকেজের অংশ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট এক জার্মান সরকারি সূত্রের ভাষ্যমতে, এই সহায়তা ইউক্রেনের বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এর প্রভাব অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
জার্মান চ্যান্সেলরের এই সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন ইউক্রেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার হামলা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে এবং শীত মৌসুম সামনে রেখে দেশটির জ্বালানি ও যোগাযোগব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।





Add comment