সোলার প্যানেলের নিচেই এবার ফলবে ফসল

একই জমিতে একসঙ্গে ফসল উৎপাদন এবং সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপায় নিয়ে গবেষণা করছেন সুইডেনের একদল গবেষক। একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় সুইডেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা আংশিক স্বচ্ছ ও ম্যাজেন্টা রঙের একধরনের সোলার প্যানেলের প্রোটোটাইপ তৈরির তথ্য জানিয়েছেন। এই বিশেষ প্যানেল উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় লাল ও নীল রঙের আলোক তরঙ্গ নিচে পৌঁছাতে সহায়তা করার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনেও ভূমিকা রাখে।

গবেষকদের তথ্যমতে, উদ্ভিদ মূলত আলোর লাল ও নীল অংশকে কাজে লাগিয়েই নিজেদের খাদ্য ও শক্তি তৈরি করে থাকে। এই ধারণাকে কাজে লাগিয়েই তৈরি করা হয়েছে ম্যাজেন্টা রঙের এই সোলার প্যানেল, যা একদিকে উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় আলো প্রবেশ করতে দেয়, অন্যদিকে বিদ্যুৎও উৎপন্ন করে। গবেষণায় এই প্রযুক্তির বাস্তব কার্যকারিতা যাচাই করতে ব্রকলি চাষের একটি পরীক্ষা চালানো হয়। গবেষকেরা প্রায় ২০ বর্গমিটারের তিনটি আলাদা প্লটে ব্রকলি চাষ করেন, যার একটি ছিল স্বাভাবিক রোদের নিচে, বাকি দুটি ছিল যথাক্রমে ৫০ শতাংশ ও ৭০ শতাংশ স্বচ্ছতাসম্পন্ন ম্যাজেন্টা সোলার প্যানেলের নিচে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, দুই ভিন্ন মাত্রার স্বচ্ছতাসম্পন্ন প্যানেলের নিচে উৎপাদিত ব্রকলির ফলন প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ের হয়েছে। যদিও প্যানেলের নিচে থাকা ব্রকলি পরিপক্ব হতে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২৫ দিন বেশি সময় নিয়েছে, তবু কম আলো পাওয়ার পরও সেগুলো যথেষ্ট ভালোভাবেই বেড়ে উঠেছে। গবেষণায় আরও দেখা যায়, ৫০ শতাংশ স্বচ্ছ প্যানেলের নিচে আলোর কার্যকারিতা ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৫ গুণ বেশি, আর ৭০ শতাংশ স্বচ্ছ প্যানেলের নিচে তা ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮ গুণ বেশি। প্যানেলগুলোর কাচের ভেতরে থাকা অস্বচ্ছ ক্যাডমিয়াম টেলুরাইড স্ট্রিপের কারণেই নির্দিষ্ট পরিমাণ আলো এর ভেতর দিয়ে নিচে প্রবেশ করতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

তবে এই গবেষণায় কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছেন গবেষকেরা। ব্যবহৃত ম্যাজেন্টা প্যানেলগুলো মূলত ভবনের নান্দনিক নকশার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে এই কৃষি-গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্যানেলের ফিল্টার সবুজ আলো আটকে দিলেও সেই শক্তির পুরোটা সোলার সেল সংগ্রহ করতে পারে না বলেও জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক জানান, প্রচলিত সোলার প্যানেলের তুলনায় এই ম্যাজেন্টা প্যানেলগুলো হেক্টরপ্রতি তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। তাই উৎপাদিত বিদ্যুতের এই ঘাটতি অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে আদৌ পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তবে তাঁর মতে, ছোট আকারের কমিউনিটি গার্ডেন কিংবা গ্রিনহাউসের ছাদে এই প্রযুক্তি এখনই কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব।

গবেষকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও উন্নত হলে তা শহুরে কৃষি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়ে একটি টেকসই মডেল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, যা সীমিত জমিতে একই সঙ্গে খাদ্য ও বিদ্যুৎ, উভয় চাহিদা মেটাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed