সিভির যেসব ভুলে শুরুতেই বাতিল হয়ে যায় আবেদন

বারবার সিভি জমা দেওয়ার পরও কোনো সাড়া মিলছে না? হয়তো সামান্য কিছু ত্রুটির কারণেই আপনি প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ছেন।

একজন চাকরিপ্রার্থীর জন্য সিভি বা জীবনবৃত্তান্ত হলো তাঁর প্রথম পরিচয়পত্র। নিয়োগকর্তা বা এইচআর প্রতিনিধি প্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আগে এই সিভির মাধ্যমেই তাঁর সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরি করেন। বাস্তবতা হলো, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকার পরও শুধু সিভির কিছু ছোট ত্রুটির কারণে অনেক প্রার্থী শুরুতেই বাদ পড়ে যান। কেন এমনটা ঘটে, তার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে।

বানান ও ব্যাকরণগত ত্রুটি

সিভিতে বানান ভুল বা ব্যাকরণগত দুর্বলতা থাকা সবচেয়ে গুরুতর ও ঝুঁকিপূর্ণ ভুলগুলোর একটি। এই ধরনের ভুল প্রার্থীর অমনোযোগিতা ও দায়িত্বহীনতার একটি নেতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। তাই সিভি জমা দেওয়ার আগে একাধিকবার সতর্কতার সঙ্গে সেটি পর্যালোচনা করা জরুরি। এমনকি ছোট একটি বানান ভুল বা বাক্যগঠনের ত্রুটিও নিয়োগকর্তার মনে প্রার্থীর পেশাদারত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি করতে পারে।

অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ ও অপ্রাসঙ্গিক তথ্য

অনেক প্রার্থীর ধারণা, সিভি যত বেশি পৃষ্ঠার হবে, নিয়োগকর্তা ততটাই মুগ্ধ হবেন। তবে এই ধারণা পুরোপুরি ভুল। একজন এইচআর কর্মকর্তার হাতে প্রতিটি সিভি পর্যালোচনার জন্য সময় থাকে খুবই সীমিত। চার-পাঁচ পৃষ্ঠার সিভিতে অপ্রয়োজনীয় বা প্রাসঙ্গিক নয় এমন তথ্য জুড়ে দিলে যাচাইকারী ব্যক্তি বিরক্ত বা অধৈর্য হয়ে উঠতে পারেন। এ কারণে সিভি হওয়া উচিত সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট এবং তথ্যবহুল।

আবেদনকৃত পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যের অভাব

একটিমাত্র সর্বজনীন সিভি তৈরি করে সব ধরনের পদের জন্য পাঠিয়ে দেওয়াও একটি সাধারণ ভুল। যে পদের জন্য আবেদন করা হচ্ছে, সেই পদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিভি সাজানো প্রয়োজন। অতীত অভিজ্ঞতা যদি প্রাসঙ্গিক না হয় কিংবা সেই অভিজ্ঞতা নতুন পদে কীভাবে কাজে আসবে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা না হয়, তাহলে সিভিটি বাছাই প্রক্রিয়ার একেবারে প্রথম ধাপেই বাদ পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।

দায়িত্বের তালিকা থাকলেও অর্জনের উল্লেখ না থাকা

শুধু ‘এই কাজ করেছি’ বা ‘সেই দায়িত্ব পালন করেছি’ ধরনের বিবরণ দিয়ে সিভি সাজালে প্রার্থীর প্রকৃত সক্ষমতা বা প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। দায়িত্বের বিবরণের পাশাপাশি সেই কাজের মাধ্যমে অর্জিত সুনির্দিষ্ট ফলাফল বা প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হওয়া বাড়তি মূল্য সংখ্যা বা তথ্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা জরুরি। যেমন কোনো প্রকল্পে নেতৃত্ব দিয়ে কী পরিমাণ উন্নতি আনা হয়েছে বা দল পরিচালনার মাধ্যমে কী ধরনের ফল পাওয়া গেছে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকা প্রার্থীর জন্য একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রথাগত ও অগোছালো উপস্থাপনা

সিভির তথ্য উপস্থাপনায় এলোমেলো নকশা, একাধিক ভিন্ন ফন্টের ব্যবহার কিংবা সামগ্রিক ভিজ্যুয়াল ভারসাম্যের অভাব সিভির মান কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া ভুল ই-মেইল ঠিকানা বা যোগাযোগ নম্বর উল্লেখ করা, কিংবা অপেশাদার ধরনের ই-মেইল ব্যবহার করাও প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিপরীতে, সংক্ষিপ্ত, নির্ভুল, প্রাঞ্জল ও তথ্যনির্ভর সিভিই সাধারণত নিয়োগকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।

মোটের ওপর, একটি কার্যকর সিভি তৈরির ক্ষেত্রে ভাষাগত নির্ভুলতা, প্রাসঙ্গিকতা, সংক্ষিপ্ততা এবং সুস্পষ্ট অর্জনের উপস্থাপনা, এই বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। ছোট ছোট এসব ভুল এড়িয়ে চলতে পারলে একজন প্রার্থী নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপেই বাদ পড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারেন।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed