নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩০ নির্বাচনে নতুন এক রাজনৈতিক সম্ভাবনার নাম শামসুল হক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ বার্নি স্যান্ডার্স-এর সমর্থনে তাঁর প্রচারণায় নতুন গতি এসেছে। তাঁর সমর্থন নিঃসন্দেহে প্রচারণায় রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশি শামসুল হককে শক্তি দিয়েছে এই সমর্থন। নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক রাজনীতিতে প্রগতিশীল ভোটারদের একটি শক্তিশালী অংশ রয়েছে। বার্নি স্যান্ডার্সের নাম সেই ভোটারদের কাছে এখনও আস্থার প্রতীক। ফলে এই সমর্থন শুধু প্রচারণার পোস্টারে ব্যবহারের বিষয় নয়। এটি ভোটারদের ওপর একটা সরাসরি প্রভাব ফেলবে। শামসুল হক নিউইয়র্কে ছাত্র নেতা থেকে তাঁর কর্মস্থল এনওয়াইপিডিতে যে অবদান রেখেছেন তারই নতুন এই ধারাবাহিকতা ‘অ্যাসেম্বলি মেম্বার’ হয়ে জনতার জন্য কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া। এনওয়াইপিডিতে আজকে বাংলাদেশিদের যে জয়জয়কার দেখা যায় তার অন্যতম পথিকৃৎ হলেন শামসুল হক। তাঁর নিজ বাসা থেকেই তিনি পুলিশের সংগঠন ‘বাপা’র যাত্রা শুরু করেছিলেন। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হিসেবে অবসরে যাওয়া শামসুল হক একজন চৌকস, মেধাবী কর্মকর্তাই নন, একজন বিনয়ী সংগঠক ও নেতা। কমিউনিটির মানুষ তাঁকে নিয়ে গর্ব করে।
গত তিন দশকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি জনসংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উপস্থিতি। জ্যাকসন হাইটস থেকে জ্যামাইকা, অ্যাস্টোরিয়া থেকে ওজন পার্ক নানা এলাকায় বাংলাদেশিদের দৃশ্যমানতা এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সেই তুলনায় রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এখনও নেই বললেই চলে। ফলে শামসুল হকের এই প্রার্থিতা অনেকের কাছে একটি প্রতীকী মুহূর্ত। বাংলাদেশিদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বিজয় বাংলাদেশিদের মূলধারার রাজনীতির পথ খুলে দেওয়ার মতো অবস্থান।
শামসুল হক দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটির নানা সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত থেকে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। শিক্ষা, অভিবাসী অধিকার, ক্ষুদ্র ব্যবসা, জননিরাপত্তা এবং তরুণদের উন্নয়নের মতো ইস্যুগুলো তাঁর প্রচারণার কেন্দ্রে রয়েছে। এগুলো নিঃসন্দেহে ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভোটের দিনে সেই সমর্থনকে ব্যালটে রূপান্তর করতে পারাই হবে আসল পরীক্ষা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিস্ট্রিক্ট-৩০-এর নির্বাচন একটি বড় বার্তা দেবে। যদি শামসুল হক শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন, তবে তা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত বিজয় হবে না; বরং এটি হবে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসের নতুন অধ্যায়। শামসুল হক বিভিন্ন কমিউনিটির জন্য কাজ করেন। তাঁদের সমর্থন এবার জরুরি। তবে তাঁর বিজয় বড় করে বাংলাদেশিদের জয় হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। শামসুল হক সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।





Add comment