একসঙ্গে খেলে বিপদ বাড়াতে পারে যেসব খাবার

খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত পুষ্টিগুণ, স্বাদ কিংবা পছন্দকে গুরুত্ব দিই। তবে সব স্বাস্থ্যকর খাবার একসঙ্গে খাওয়া যে শরীরের জন্য উপকারী হবে, এমন ধারণা সব সময় সঠিক নয়। আয়ুর্বেদ এবং আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট খাবারের সংমিশ্রণ হজমপ্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে। এর ফলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা কিংবা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে ফল, দুধ, মাংস ও ভারী খাবারের কিছু সমন্বয় পাকস্থলীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তাই কোন খাবার কোনটির সঙ্গে খাওয়া উচিত, সে বিষয়ে সচেতন থাকাও জরুরি। জেনে নেওয়া যাক এমন পাঁচ ধরনের খাবারের সংমিশ্রণ সম্পর্কে, যেগুলো একসঙ্গে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারী খাবারের সঙ্গে ফল

ফল সাধারণত দ্রুত হজম হয়ে যায়। এতে প্রচুর পানি ও প্রাকৃতিক চিনি থাকায় এটি পাকস্থলীতে বেশি সময় অবস্থান করে না। কিন্তু ভাত, মাংস বা দুগ্ধজাত খাবারের মতো ভারী খাদ্যের সঙ্গে ফল খেলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ফলকে দীর্ঘ সময় পাকস্থলীতে অবস্থান করতে হয়। ফলে সেখানে গাঁজন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এর ফল হিসেবে গ্যাস, অ্যাসিডিটি কিংবা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, ফল খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো খালি পেট। না হলে মূল খাবারের অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট আগে ফল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ঝাল খাবারের সঙ্গে দুধ

দুধে কেসিন, ফ্যাট এবং ল্যাকটোজ থাকার কারণে এটি তুলনামূলক ধীরে হজম হয়। অন্যদিকে ঝাল খাবার পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

এই দুই ধরনের খাবার একসঙ্গে গ্রহণ করলে অনেকের ক্ষেত্রে পেট ভার লাগা, গ্যাস বা অস্বস্তির অনুভূতি তৈরি হতে পারে। যদিও এটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রভাব ফেলে না। তারপরও বিশেষজ্ঞরা দুধ আলাদাভাবে খাওয়ার পরামর্শ দেন। চাইলে খেজুর, কাঠবাদাম কিংবা হোল গ্রেইনজাতীয় খাবারের সঙ্গে দুধ গ্রহণ করা যেতে পারে।

মাংস ও দুধজাতীয় খাবার

প্রোটিন মানবদেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। তবে একই সময়ে একাধিক ভারী প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল হয়ে উঠতে পারে।

মাংস এবং দুধজাতীয় খাদ্য উভয়ই প্রোটিন ও ফ্যাটে সমৃদ্ধ। ফলে এগুলো হজম হতে বেশি সময় নেয়। উদাহরণ হিসেবে চিজ বা ক্রিমযুক্ত মাংসের খাবারের কথা বলা যায়, যা পাকস্থলীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষ করে যাঁদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে অথবা যাঁদের হজমতন্ত্র সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে গ্যাস, পেট ভার লাগা বা পেট ফাঁপার সমস্যা বেশি দেখা যেতে পারে। তাই মাংস খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুধজাতীয় খাবার গ্রহণ না করে কিছুটা সময়ের বিরতি রাখা উত্তম।

ফলের সঙ্গে দই

দই ও ফলের সংমিশ্রণকে অনেকে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে এটি সব মানুষের জন্য সমানভাবে সহজপাচ্য নাও হতে পারে।

দইয়ের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটিন তুলনামূলক ধীরে হজম হয়। অন্যদিকে ফল দ্রুত হজম হয়ে যায়। এই দুই ধরনের খাদ্য একসঙ্গে খেলে হজমের গতির পার্থক্যের কারণে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটি বা গাঁজনজনিত অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে কমলা ও আনারসের মতো বেশি টক ফলের সঙ্গে দই খেলে এ ধরনের সমস্যা বাড়তে পারে। তবে যারা দইয়ের সঙ্গে ফল খেতে পছন্দ করেন, তারা বেরিজাতীয় ফল বা পাকা আম বেছে নিতে পারেন। এগুলো তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়।

লেবু ও দুধ

লেবু এবং দুধ একসঙ্গে খাওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। লেবুতে রয়েছে উচ্চমাত্রার অ্যাসিড, আর দুধে থাকে কেসিন নামের একটি প্রোটিন।

শক্তিশালী অ্যাসিডের সংস্পর্শে এলে কেসিন দ্রুত জমাট বেঁধে যেতে পারে। ফলে পাকস্থলীতে এই দুটি একসঙ্গে পৌঁছালে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের হজমক্ষমতা দুর্বল।

এ কারণেই সাইট্রাসজাতীয় ফল বা টক খাবার গ্রহণের পরপরই দুধ পান না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। লেবু ও দুধ খাওয়ার মধ্যে অন্তত এক ঘণ্টার বিরতি রাখলে হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সুবিধা হয়।

খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কীভাবে এবং কোন খাবারের সঙ্গে খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক খাদ্যসংমিশ্রণ হজমকে সহজ করে, আর ভুল সংমিশ্রণ অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই সুস্থ থাকার জন্য খাবার নির্বাচনের পাশাপাশি খাবারের সঠিক সমন্বয় সম্পর্কেও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed