যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভিসা নিয়মে কঠোর নীতিমালার ঘোষণা দিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য হলো ভিসা ব্যবস্থায় নজরদারি বৃদ্ধি, অপব্যবহার কমানো এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরো নিয়ন্ত্রিত করা।
তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা, অনিশ্চয়তা এবং আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যদি আদালত থেকে কোনো বাধা না আসে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি গত প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি। নতুন নিয়মের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, বর্তমানে প্রচলিত নির্দিষ্ট কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুবিধা বাতিল করা। বর্তমানে এফ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, জে ভিসাধারী বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং আই ভিসাধারী আন্তর্জাতিক সাংবাদিকরা সাধারণত তাদের নির্ধারিত উদ্দেশ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন।
বর্তমান ব্যবস্থায় একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক ডিগ্রি শেষ করার পর ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, উচ্চতর শিক্ষা বা দ্বিতীয় ডিগ্রি শুরু করতে পারতেন এবং এজন্য সব সময় নতুন করে থাকার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হতো না। একইভাবে, কোনো গবেষক জে ভিসায় তার গবেষণা প্রকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান করতে পারতেন এবং আন্তর্জাতিক সাংবাদিকরা দীর্ঘ
বর্তমানে এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য যে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে, নতুন নিয়মে তা কমিয়ে ৩০ দিন করা হচ্ছে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাক্রম চার বছরের বেশি সময় ধরে চলে, তাহলে তাকে অতিরিক্ত থাকার জন্য ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর কাছে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। যারা যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় থাকতে চান, তাদের নতুন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।





Add comment