গ্রিণকার্ডের পাবলিক চার্জ বিধি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর

নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন, গত ২০ জুলাই সোমবার নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের অভিবাসী বিষয়ক কার্যালয় এবং অভিবাসী অধিকারকর্মীদের সমন্বয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির নতুন পাবলিক চার্জ বিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে সতর্ক করেন যে, নতুন বিধি নিউইয়র্ক জুড়ে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে ভীতি ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে এবং যোগ্য ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সেবা কর্মসূচি গ্রহণ থেকে নিরুৎসাহিত করবে|

উল্লেখ্য, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রাম্পের নতুন পাবলিক চার্জ বিধি কার্যকর হবে| নতুন বিধি অনুযায়ী অভিবাসন কর্মকর্তারা মূল্যায়ন করবেন যে, যেসব অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা গ্রহণ করছেন এবং যারা পারিবারিক স্পন্সরে যুক্তরাষ্টে বৈধ অভিবাসী হিসেবে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদায় যুক্তরাষ্ট্রে আসার অনুমতি চাইবেন, তাদের ‘পাবলিক চার্জ’ হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, অর্থ্যাৎ তারা যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদির জন্য সরকারি ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন কিনা|

ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত পরিবর্তিত পাবলিক চার্জ বিধি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমলের পাবলিক চার্জ বিধির স্থলাভিষিক্ত হবে| বাইডেনের বিধি কার্যকর হয়েছিল ২০২২ সালের ২৩ ডিসে¤^র থেকে, যে বিধিতে পাবলিক চার্জ নির্ধারণ সীমাবদ্ধ ছিল আবেদনকারীর নগদ সহায়তা গ্রহণ বা সরকার-অর্থায়িত দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা ব্যবহারের মধ্যে| নতুন বিধির অধীনে অভিবাসন কর্মকর্তারা বিস্তৃত বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করবেন, যাতে নির্ধারণ করা হবে যে, কোনো অভিবাসী নাগরিকত্ব অর্জন করতে ও অভিবাসন স্ট্যাটাস পরিবর্তন করতে পারবেন কিনা অথবা আদ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্য কি না| সবকিছুর মর্ম হলে উক্ত ব্যক্তি পারিবারিক স্পন্সরশিপে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর রাষ্ট্রের দায় হয়ে পড়বেন কিনা|

নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন ট্রাম্পের নতুন পাবলিক চার্জ বিধিকে বিপজ্জনক পশ্চাদপদ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র বসবাসকারী অভিবাসী, এবং যারা পারিবারিক স্পন্সরশিপে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার জন্য তাদের নিজ নিজ দেশে অবস্থান করছেন, তাদের মধ্যে অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে এবং তারা ভীতি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাচ্ছেন| কারণ ট্রাম্পের পাবলিক চার্জ বিধিতে তারা স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণের জন্য জরিমানাসহ বিভিন্ন সাজার মধ্যে পড়তে পারেন|

নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ আওয়াওদেহ ব্রিফিংয়ে বলেন, পাবলিক চার্জ বিধি আমেরিকার করদাতাদের নিরাপত্তার ব্যাপার নয়, প্রশাসন এ বিধিতে পরিবর্তন এনেছে অভিবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ সেবা গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে এবং ভীতির পরিবেশ সৃষ্টির জন্য| এর প্রভাব কেবল যারা সরাসরি এর আওতায় পড়বেন, তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পরিবারগুলোকে চরম পীড়নের মধ্যে ফেলবে যে, তারা নিরাপদে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন কি না, অথবা পরিবারের জন্য খাবার জোগাড় করতে পারবেন কি না| আমাদের কোয়ালিশন কাজ চালিয়ে যাবে যাতে নিউইয়র্কের প্রতিটি অভিবাসী কমিউনিটি বিশ্বস্ত আইনি পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ লাভ করে|

সিটি মেয়রের অভিবাসী বিষয়ক কমিশনার ফাইজা এন আলী বলেছেন, কারও অভিবাসন স্ট্যাটাস যাই হোক না কেন, সকল বাসিন্দা কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই সিটির সেবা গ্রহণের অধিকার রাখে| পাবলিক চার্জের আওতা বৃদ্ধির ফেডারেল সরকারের সিদ্ধান্ত নিউইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোর অভিবাসী পরিবারগুলোর পাশাপাশি সিটির অর্থনীতির ওপরও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে| মানুষ যখন চিকিৎসা নিতে, অপরাধের অভিযোগ জানাতে বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে ভয় পায়, তখন পুরো কমিউনিটি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়ে| নাগরিকাদের চিকিৎসা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলে এবং সবার নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে|

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed