বিয়ে করলেই নাগরিকত্ব মিলবে না

মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠছে| প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতির কারণে আবেদনকারীদের দীর্ঘ অপেক্ষা, কঠোর যাচাই-বাছাই এবং অতিরিক্ত শর্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে| যদিও বিয়ের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ এখনও বহাল রয়েছে, তবুও অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, বাস্তবে পুরো প্রক্রিয়া এখন অনেক বেশি জটিল|

জাতীয় গণমাধ্যম এনপিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এখনও বিদেশে জন্ম নেওয়া ¯^ামী বা স্ত্রীকে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করাতে পারেন| পরে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে তারা নাগরিকত্বের আবেদনও করতে পারেন| তবে এখন আবেদনকারীদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাই, আরও বিস্তৃত অনুসন্ধান এবং বাড়তি সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে| অনেক ক্ষেত্রে আবেদন নিষ্পত্তির আগেই বিদেশি জীবনসঙ্গীকে আটক বা বহিষ্কারের আশঙ্কাও ˆতরি হয়েছে|

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এই ব্যবস্থা কোনো আইনি পরিবর্তন নয়| এর লক্ষ্য হলো জালিয়াতি ঠেকানো, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন আইন আরও কঠোরভাবে কার্যকর করা|
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থার মুখপাত্র জ্যাক কাহলার বলেন, উন্নত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অভিবাসন সুবিধা দেওয়ার আগে জালিয়াতি, জননিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে| তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি আবেদন জমা দিলেই বা আবেদন অনুমোদন পেলেই ¯^য়ংক্রিয়ভাবে অভিবাসন মর্যাদা পান না| এতে বহিষ্কার থেকে সুরক্ষাও নিশ্চিত হয় না|
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, পারিবারিক ভিত্তিতে আবেদন অনুমোদিত হলেও অন্য কোনো কারণে কেউ অভিবাসন আইন ভঙ্গ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে|
দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করা স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার অন্যতম দ্রুত উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে| কারণ, মার্কিন নাগরিকের ¯^ামী বা স্ত্রীকে নিকটতম পারিবারিক সদস্য হিসেবে গণ্য করা হয়| ফলে তাদের ক্ষেত্রে বার্ষিক প্রবেশ অনুমতির সংখ্যাগত সীমা প্রযোজ্য হয় না|

স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার পর অধিকাংশ আবেদনকারী তিন বছর পর নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারেন| তবে এ জন্য ˆববাহিক সম্পর্ক বহাল থাকতে হবে এবং দম্পতিকে একসঙ্গে বসবাস করতে হবে| পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিকভাবে বসবাস, নির্দিষ্ট সময় দেশে অবস্থান, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং নাগরিকত্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্তও পূরণ করতে হবে| পুরো প্রক্রিয়ার শুরুতেই মার্কিন নাগরিক ¯^ামী বা স্ত্রীকে জীবনসঙ্গীর জন্য স্থায়ী বাসিন্দার আবেদন করতে হয়| সেই সঙ্গে প্রমাণ করতে হয় যে বিয়েটি প্রকৃত এবং শুধু অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়নি| এজন্য যৌথ বাসস্থান, যৌথ ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন নথি জমা দিতে হয়|

ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিয়ের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ ৪৩ হাজার ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে ˆবধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন| এটি ওই বছরে দেওয়া মোট স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার প্রায় এক-চতুর্থাংশ|
অভিবাসন আইনজীবীদের ভাষ্য, বর্তমানে এসব আবেদনে আগের চেয়ে অনেক বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে| অতিরিক্ত নথি চাওয়া হচ্ছে| আবেদনকারীদের অতীত সম্পর্কেও বিস্তৃত অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে|
অভিবাসন আইনজীবী চার্লস কাক বলেন, একসময় বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া তুলনামূলক সহজ ছিল| এখন সেই পথ অনেক কঠিন হয়ে গেছে| আরেক অভিবাসন আইনজীবী রোজিনা স্ট্যামবাউয়ের মতে, বর্তমান কঠোর পরিবেশের কারণে অনেক পরিবার ˆবধ প্রক্রিয়ায় আবেদন করতেও সাহস পাচ্ছে না| তার ভাষায়, মানুষ ভীত| অনেক দম্পতি আবেদনই করছেন না| কারণ, তাদের আশঙ্কা আবেদন নিষ্পত্তির আগেই বিদেশি জীবনসঙ্গীকে আটক কিংবা বহিষ্কার করা হতে পারে|

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed