যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম-প্রধান দেশগুলো থেকে বৈধ অভিবাসন ও শরণার্থী প্রবেশে ব্যাপক ধস নেমেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈধ অভিবাসন দ্রুত কমতে থাকে। ক্যাটোর সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মাসে ২১ হাজার ৯৬ জন থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা নেমে আসে মাত্র ৮০৮ জনে, প্রায় ৯৬ শতাংশ পতন।
এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ যে ক্যাটোর পরিসংখ্যান ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়; এসব দেশের নাগরিকত্বের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে। ফলে তালিকাভুক্ত সবাই মুসলিম নন। ক্যাটোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এসব ৪৫ দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসিত শরণার্থীদের ২৮ শতাংশ মুসলিম ছিলেন না।
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম-প্রধান দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসন কমানোর নীতি নতুন নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে কয়েকটি মুসলিম-প্রধান দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ ও অভিবাসন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ক্যাটোর ২০১৭ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪৫ হাজার মুসলিম শরণার্থী গ্রহণ করেছিল। ২০১৭ সালে তা কমে ১১ হাজারের কিছু বেশি হয়। একই সময়ে মুসলিম-প্রধান দেশগুলোর নাগরিকদের স্থায়ী অভিবাসী ভিসা প্রদানও কমে যায়।
২০১৬ অর্থবছরে এসব দেশ থেকে মাসে গড়ে ৯ হাজার ৭৮৭টি স্থায়ী অভিবাসী ভিসা দেওয়া হলেও ২০১৭ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাসিক গড় ছিল ৮ হাজার ৩৬৬। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর যাচাই-প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট হাওয়াই বনাম ট্রাম্প মামলায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তৃতীয় সংস্করণকে বৈধ বলে রায় দেয়।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পর পরিস্থিতি আবার পরিবর্তিত হয়। বিশেষ করে ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বৈধ অভিবাসন ও শরণার্থী প্রবেশ বাড়তে থাকে। ক্যাটোর বর্তমান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মুসলিম-প্রধান দেশগুলোর নাগরিকদের বৈধ প্রবেশের সংখ্যা মাসে ২২ হাজারেরও বেশি ছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও এই সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৯৬।
কিন্তু ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪৫টি মুসলিম-প্রধান দেশের নাগরিকদের মাসিক অভিবাসী ভিসা ও বৈধ শরণার্থী প্রবেশের সংখ্যা মাত্র ৮০৮-এ নেমে আসে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এসব দেশ থেকে ৫ হাজার ১৫৭ জন শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই সংখ্যা ছিল শূন্য।
আফগানিস্তান থেকে ৫ হাজার ৫৬৩ জন বৈধ অভিবাসী ও শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা মাত্র ৯ জনে নেমে আসে। পাকিস্তানি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই সময়ে প্রায় ৯৭.৯ শতাংশ পতন হয়েছে।





Add comment