যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক অবৈধ অভিবাসীকে আফ্রিকায় প্রেরণ

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া এবং ডিপোর্টেশনের আদেশ পাওয়া অভিবাসীরা নিজ দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আদালতে মামলা করলে, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পরিবর্তে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো শুরু করেছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজ দেশে ফেরত যেতে অস্বীকৃতি জানানো ব্যক্তিদের জন্য আইন অনুযায়ী একটি ‘নিরাপদ ও সুরক্ষিত’ তৃতীয় দেশ খুঁজে দেওয়া হচ্ছে। এই নীতির আওতায় বিভিন্ন দেশের শতাধিক অভিবাসীকে ইতিমধ্যে আফ্রিকার কয়েকটি দেশে পাঠানো হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন নিজ দেশের পরিবর্তে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে অভিবাসীদের বহিষ্কারের অভিযান আরো বিস্তৃত করেছে। ইউএস গভর্নমেন্টের অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে আফগানিস্তান, কিউবা, নিকারাগুয়াসহ বিভিন্ন দেশের ১০০ জনের বেশি অভিবাসীকে আফ্রিকার আটটি দেশে পাঠানো হয়েছে।

সরকারি নথিতে দেখা গেছে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) পরিচালিত তিনটি বহিষ্কারকারী ফ্লাইটে থাকা অভিবাসীদের বুরুন্ডি, ক্যামেরুন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, এসওয়াতিনি, লাইবেরিয়া, রুয়ান্ডা ও সিয়েরা লিওনে পাঠানো হয়। এসব দেশের কোনোটি সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের নিজ দেশ নয়। আফগান, কিউবান ও নিকারাগুয়ানদের পাশাপাশি এসব ফ্লাইটে ইরান, নেপাল, তুরস্ক ও ভেনেজুয়েলার নাগরিকও ছিলেন। এমনকি আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নাগরিককেও তাদের নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য আফ্রিকান দেশে পাঠানো হয়েছে।

ইউএস গভর্নমেন্টের নথিগুলো থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের তথাকথিত ‘থার্ড-কান্ট্রি ডিপোর্টেশন’ বা তৃতীয় দেশে বহিষ্কার কার্যক্রমের বিস্তৃতি সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ ধরনের বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের গ্রহণে সম্মত হয়েছে। লাতিন আমেরিকার কোস্টারিকা, পানামা ও প্যারাগুয়ের পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান সংখ্যক আফ্রিকান দেশও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করেছে। তবে এসব আন্তর্জাতিক চুক্তির অনেক তথ্যই প্রকাশ্যে আসেনি।

কিছু দেশ শুধু আফ্রিকার অন্য দেশ থেকে বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের গ্রহণে সম্মত হয়েছে। আবার এসওয়াতিনি, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ও লাইবেরিয়ার মতো দেশ এশিয়া, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরও গ্রহণ করেছে।

আফ্রিকায় পাঠানো কিছু অভিবাসীর যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। বিশেষ করে এসওয়াতিনি ও দক্ষিণ সুদানে পাঠানো কয়েকজন গুরুতর বা সহিংস অপরাধে দণ্ডিত হয়েছিলেন। তবে অন্য অনেক অভিবাসীর কোনো অপরাধের ইতিহাস নেই; তাদের বিরুদ্ধে মূলত অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রেঅবস্থানের অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ তিনটি আইস ফ্লাইটের একটি সিয়েরা লিওন ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে অভিবাসীদের নামিয়ে দেয়। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাত এবং রুশ ভাড়াটে যোদ্ধাদের উপস্থিতির কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর দেশটির জন্য লেভেল চার ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে, যেখানে মার্কিন নাগরিকদের যেকোনো কারণে সেখানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।তবে এসব বহিষ্কারের ক্ষেত্রে আইনি ও মানবিক উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

এদিকে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বলেছে, কোনো অভিবাসী নিজ দেশে ফেরত যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আদালতে মামলা করলে আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রকে তার জন্য একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত তৃতীয় দেশ খুঁজে দিতে হয়। আর কেউ নিজ দেশে ফিরতে চাইলে সরকার বিনামূল্যে বিমান টিকিটের পাশাপাশি ৩ হাজার ডলারের চেক দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed