অভিবাসী বহিষ্কারে ট্রাম্প প্রশাসনের জাহাজ ব্যবহারের পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে নথিহীন অভিবাসীদের বহিষ্কারে এবার জাহাজ ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে অভিবাসীদের পাঠাতে প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ একটি প্রশিক্ষণ জাহাজসহ বিভিন্ন ফেরি ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সমুদ্রপথে এসব যাত্রায় কয়েক দিন সময় লাগতে পারে এবং প্রতিটি অভিযানে ব্যয় হতে পারে কয়েক মিলিয়ন ডলার।

প্রশাসনের দুই সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে পরিকল্পনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন কর্মকর্তা।

পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সম্ভাব্য জাহাজ নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থানরত ‘ট্রেনিং শিপ গোল্ডেন বিয়ার’। জাহাজটি দীর্ঘদিন ধরে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির মেরিটাইম একাডেমির শিক্ষার্থীদের সমুদ্রে প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। চলতি গ্রীষ্মে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জাহাজটির ৩০ বছরের কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

এছাড়া প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জাহাজের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে বেসামরিক প্রশিক্ষণ জাহাজটি অভিবাসী বহিষ্কারের কাজে ব্যবহারের জন্য ফেডারেল সরকারের কী ধরনের আইনি কর্তৃত্ব রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবং সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিভাগটি নিজেদের সব ধরনের সম্পদ ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করছে। তবে প্রতিরক্ষা বিভাগ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসীদের ব্যাপক হারে বহিষ্কারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সামরিক উড়োজাহাজে করে অভিবাসীদের বিদেশে পাঠানো, তৃতীয় কোনো দেশে বহিষ্কৃতদের পাঠানো এবং কিউবার গুয়ানতানামো বে-তে আটক রাখার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে উৎসাহিত করার উদ্যোগও নিয়েছে প্রশাসন।

নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা অভিবাসনবিরোধী অভিযানে প্রশাসনের আরেকটি কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে সমুদ্রপথে অভিবাসীদের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে ব্যয়, নিরাপত্তা, আইনি এখতিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সম্মতির মতো একাধিক জটিলতা রয়েছে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed